প্রসূন গোস্বামী

কবিতা - কান্নাদের কোনো ঘর থাকে না

প্রসূন গোস্বামী
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ অন্যান্য কবিতা

সহজ করে হাসতে পারাটাই এখন সবচেয়ে বড়ো অভিনয়,
সবাই ভাবে আমি বেশ আছি, কোনো কিছুতেই নেই ভয়।
অথচ বুকের ভেতর যেখানে একটা নদী থাকার কথা ছিল,
সেখানে আজ এক চিলতে মরুভূমি, রোদ্দুর সব শুষে নিল।

শহরের এই ব্যস্ত নিয়নে, আলোর নিচে আঁধার যত,
আমিও চলি মুখোশ প’রে, আর সবার মতন অবিকল অবিরত।
কেউ দ্যাখে না হাসির পেছনে কতটা ক্লান্তি জমে আছে,
কতটা কান্না জমা দিয়েছি আমি ওই মরা বটের কাছে।

ইচ্ছে করলেই কি আর মেঘ নামানো যায় এই শুষ্ক চোখে?
লোকেরা তো শুধু বিচার করতে জানে, হাসে অন্যের শোকে।
তাই অশ্রুদের আমি আটকে রেখেছি এক লোহার কপাটে,
তারা অবাধ্য হতে চায়, ভাঙতে চায় বাঁধ এই শেষ হাটে।

পাথর হয়ে যাওয়া এই বুকে এখন আর কোনো ঢেউ জাগে না,
জানতে চেয়ো না কেমন আছি, এ প্রশ্নে কোনো সুখ মেলে না।
সবাই যখন হিসেব মেলাতে ব্যস্ত, লাভ আর ক্ষতির খাতায়,
আমি তখন একলা বসে জল খুঁজি শুকনো ঝরা পাতায়।

কাঁদতে পারাটাও একটা মস্ত বড়ো অধিকার, আমি জানি,
যে অধিকার হারিয়ে ফেলেছি আমি, মেনে নিয়েছি হারানি।
চোখের কোণে যে জলটুকু শুকিয়ে গেছে বহু বছর আগে,
সে আজ আর ঝরতে চায় না, কোনো গভীর অনুরাগে।

আমি তাই কান্নাহীন এক অদ্ভুত আঁধারে বেঁচে থাকি,
সবাইকে হাসিয়ে, নিজের চোখ দুটোকে প্রতিদিন দিই ফাঁকি।

পরে পড়বো
১৩

মন্তব্য করুন