তোমার কপালে লাল টিপ,
পরনে বৈশাখী শাড়ি,
হাতের চুড়িগুলোও সাজিয়েছো সুন্দর করে,
খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে ।
আমি কখনোই পাঞ্জাবি পরিনি,
শুধু তোমার জন্য আজ পরে আছি,
মেলার ভিড়ে হাত ধরে হাঁটছি দুজন,
আজ পহেলা বৈশাখ ।

তুমি বললে, শুনো- আমাকে প্রতি বছর
বৈশাখী মেলায় নিয়ে আসবে,
দু’হাত ভরে কিনে দিবে কাঁচের চুড়ি,
এক বছর লাল, অন্য বছর নীল,
আর কিছুই চাই না আমি তোমার কাছে,
তুমি যদি কুঁড়ে ঘরেও রাখো
সেই ঘর রাখবো আলো করে,
শুধু আমাকে চুড়ি কিনে দিও প্রতি বছর ।

বটমূলের ওপাশের মঞ্চ থেকে ভেসে আসছে
বৈশাখীর গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’,
এপাশে নর-নারীদের আয়োজনের ধুম পড়েছে,
তারা সাজিয়ে বসেছে পানতা-ইলিশ ।
হাঁটতে হাঁটতে আমি তোমার হাত ধরে বলি,
প্রতি বছর নিয়ে আসবো তোমায় বৈশাখী মেলাতে;
তুমি শুধু পাশে থেকো আমার,
আমার হৃদয়ের সুপ্ত কষ্টগুলো মুছে দিও কোমল স্পর্শে ।

বিগত কাল বৈশাখীর ঝড় ভেঙ্গে দিয়ে গেছে সব,
নিশ্চল করে দিয়ে গেছে আমার এই পৃথিবী,
এখন আমি আর অহেতুক পাঞ্জাবি পরি না,
তোমার দেয়া সেটাও ছিঁড়ে নোংরা হয়ে গেছে,
কত বৈশাখ আসে, কত বৈশাখ যায়;
আমি থাকি একা বসে, তোমারই প্রতীক্ষায়;
তুমি ঠিকই বৈশাখী মেলায় যাও
অন্য ছেলের হাত ধরে !