পৃথিবীতে কত ধরণের নারী আছে
কেউ ভালোবেসে নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়,
আর কেউ ভালোবাসাকে ব্যবহার করে
নিজের সিঁড়ি বানায়।
কেউ অভাবের মধ্যে থেকেও
নিজের শরীর, আত্মা, বিবেক—
কোনোটাই বিক্রি করে না,
আবার কেউ কেউ
সামান্য সুবিধে, ক্ষমতা কিংবা নিরাপত্তার বিনিময়ে
নিজেকেই পণ্য করে তোলে—
চোখে লোভ, শরীরে হিসেব,
ভালোবাসা সেখানে শুধু দর কষাকষি।
কেউ কামনায় জ্বলতে জ্বলতে
নিজের সীমা জানে,
আর কেউ কামনাকে অস্ত্র বানিয়ে
অন্যের দুর্বলতায় আঘাত করে—
বিছানায় শুয়েও রাজনীতি করে,
স্পর্শ দিয়েই ফাঁদ পাতে।
কেউ নিষ্ঠুরভাবে অভিনয় জানে—
মুখে সতীত্বের মুখোশ,
ভেতরে দুরভিসন্ধির খসড়া,
ভাবখানা এমন—
তার মতো পবিত্র আর কেউ নেই!
কেউ সংসারের দিকে তাকিয়ে
স্বামীর অবহেলা, কাপুরুষতা, নিষ্ঠুর নীরবতা
সহ্য করে যায়—
কারণ ভেঙে পড়ার বিলাসিতা
তার নেই।
আবার কেউ
কারও চোখের জল, কারও ভরসা,
কারও ভালোবাসা—
সব পায়ের নিচে ফেলে
নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে নেয়
নির্লজ্জ দক্ষতায়।
তবু—
এই সব মিলিয়েই নারী,
যেমন পুরুষও একরকম নয়।
নারী মানে শুধু ত্যাগ নয়,
নারী মানে শুধু কামনাও নয়,
নারী মানে মানুষ—
ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার,
মর্যাদা ও পতনের সমস্ত সম্ভাবনা নিয়ে।
তাই নারীকে দেবী বানিয়ে মিথ্যে সম্মান নয়,
আবার এক লাইনের গালিও নয়—
চাই সত্যের চোখে দেখা সম্মান,
যেখানে ভুল করার অধিকারও আছে,
আর দায় এড়ানোর ছাড় নেই।
কারণ নারী মানুষ—
আর মানুষ হওয়ার মানেই
সম্পূর্ণ হওয়া, নিখুঁত হওয়া নয়।

পরে পড়বো
৫৫
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন