তিনি মাথায় আগুন নিয়ে হাঁটতেন,
চোখে ছিল খোলা ছুরি—
যে ছুরি মিথ্যার গলা কাটে,
আর দাসত্বের ঘাড়ে বসায় প্রশ্ন।

তিনি বলতেন না ধীরে,
বলতেন বজ্রের ব্যাকরণে—
একটি বাক্য মানে
হাজার বছরের ঘুম ভাঙা।

ওরা তাঁকে সাধু বানাতে চায়,
তিনি মানুষ বানাতে চেয়েছিলেন মানুষ।
ওরা তাঁকে গেরুয়ায় ঢাকে,
তিনি উলঙ্গ সত্যে ঢেকেছিলেন দেশ।

তিনি দেখেছিলেন—
ভগবান নয়, ভুখা পেটই সবচেয়ে পবিত্র।
মন্দির নয়, মজুরের কপালেই
সভ্যতার শেষ শ্লোক লেখা।

তাঁর মাথায় বেদান্ত,
বুকে সাম্যের কোরান,
আর দুই কাঁধে বহন করতেন
শতাব্দীর অপমান।

তিনি ধর্মের নামে হাঁটেননি,
হেঁটেছেন মানুষের দিকে।
তিনি বলেছিলেন—
যে জাত মানুষকে নিচু করে
সে জাত ভেঙে ফেলো।
যে ধর্ম মানুষকে কাঁদায়
সে ধর্মে আগুন দাও।
এই কথাটাই আজও বিপজ্জনক।

তাই ওরা তাঁকে মূর্তি বানায়,
যেন তাঁর মুখ বন্ধ থাকে,
চোখ বন্ধ থাকে,
আর প্রশ্নগুলো পাথর হয়ে যায়।
কিন্তু তাঁর চোখ
পাথর মানে না।

সেই চোখ আজও জ্বলে
রিকশাওয়ালার ঘামে,
খেতমজুরের ফাটা হাতে,
ধর্ষিতার চেপে রাখা কান্নায়।

তিনি আজ থাকলে
তাঁকে বলা হতো উগ্র,
নাস্তিক, রাষ্ট্রদ্রোহী,
অশান্ত।
কারণ তিনি শান্তির নামে
দাসত্ব মানেননি।

তিনি জানতেন—
দেশমাতা মানে মানচিত্র নয়,
দেশমাতা মানে মানুষ।
আর মানুষ বাঁচলে
ধর্ম বাঁচে,
মানচিত্র বাঁচে,
ঈশ্বরও বাঁচে।

আজ তাঁর জন্মদিনে
ফুল দিও না।
দাও চোখ—
যা মিথ্যা চিনবে।
দাও কণ্ঠ—
যা ভয় চিনবে না।
দাও মেরুদণ্ড—
যা ভাঙবে না।

কারণ
বিবেকানন্দ কোনো অতীত নন,
তিনি একটি দৃষ্টিভঙ্গি—
যে দৃষ্টিভঙ্গি
দেখতে শেখায়,
ভয় না পেতে শেখায়,
আর প্রয়োজনে
আগুন হয়ে উঠতে শেখায়।

পরে পড়বো
২৩
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন