দেবতারা স্বপ্নে এসে বলে—
পাথর জড়াও, গম্বুজ তোলো, ঘণ্টা ঝোলাও আকাশের গলায়।
ফেরেস্তারা নামেন—
ফরজ–সুন্নার হিসাবখাতা খুলে,
মানুষকে কিস্তিতে ভাগ করে দেন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি।
ঈশা হাঁটেন ক্রুশের ছায়া বুকে,
ঈশ্বরের পুত্র—একটি ব্র্যান্ডনেমের মতো ঝলমলে।
মুসা দেখান পবিত্র ভূমির মানচিত্র,
আল–আকশার দিকে আঙুল তুলে বলেন—
এইখানেই মুক্তি, এইখানেই ঈশ্বরের ঠিকানা।
কিন্তু কেউ বলে না—
একটা স্কুল বানাও,
যেখানে ক্ষুধার্ত বর্ণমালা পেটে ভাত পায়।
কেউ বলে না—
একটা হাসপাতাল বানাও,
যেখানে ঈশ্বর নয়, মানুষ বাঁচে আগে।
কেউ বলে না—
একটা কারখানা বানাও,
যেখানে হাতের শিরায় ঢোকে কাজ,
আর কাজের শিরায় ঢোকে সম্মান।
সবাই শুধু বলে—
মাথা নত করো,
প্রশ্ন দিও না,
রসিদ কেটে নাও পরকালের নামে।
আজ ঈশ্বর—
একটি কর্পোরেট লোগো,
মন্দির–মসজিদ–গির্জা তার শোরুম,
পুরোহিত আর মৌলবী তার সেলস ম্যানেজার।
স্বর্গের নামে চলে জমির দখল,
নরকের ভয়ে চলে মানুষের দখল।
রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ধর্মের বিলবোর্ড—
“বিশ্বাস করো, না হলে মরো।”
আমি বলি—
যে ঈশ্বর শিশুর স্কুল চায় না,
যে ঈশ্বর মায়ের ওষুধ চায় না,
যে ঈশ্বর যুবকের কাজ চায় না—
সে ঈশ্বর নয়,
সে শাসকের পোষা কুকুর,
সে বাজারের ট্রেডমার্ক।
আমার ঈশ্বর থাকলে থাকুক—
চকের ধুলোয়,
নার্সের ক্লান্ত চোখে,
মজুরের ফাটা নখে।
আর যদি না থাকেন—
তবু মানুষ থাকুক।
বিদ্যালয় থাকুক,
হাসপাতাল থাকুক,
রুটি আর কাজ থাকুক।
এই আমার ধর্ম।
এই আমার কেবলা।
এই আমার বিদ্রোহের নাম—
মানুষ।
২৪

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন