তুমি কি ইদানিং একটু অন্যরকম
অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছ, রাত্রি?
এই যেমন—
ছোটবেলার পাঁচ পয়সার মদন কুটকুটি,
দশ পয়সার মার্বেল,
আধা-ন্যাংটা ছেলেদের সঙ্গে
বৌ-ছুট, কুতকুত, দাঁড়িয়া বান্দা, গোল্লাছুট—
ডাড়িঘরের অন্ধকারে লুকোচুরি,
হাঁটুতে লেগে থাকা ধুলোই ছিল ঈশ্বর।
আজ—
আস্তিনে ছুরি রেখে
ভালোবাসার কথা বলে মানুষ,
ঠোঁটে গোলাপ, পকেটে কবরের নকশা।
তুমি বলেছিলে—
“ভরসা করো”,
আমি বুকের ভিতর মাঠ বানিয়েছিলাম,
সেখানে তুমি দৌড়াবে ভেবেছিলাম,
কিন্তু তুমি নাম লিখিয়েছো শিকারির দলে।
আমার ইচ্ছে করে—
একটা মঞ্চ জুড়ে চিৎকার করে বলি,
নেতাদের গালে সপাটে একটা থাপ্পড় দিই
অনর্গল সাধারণ মানুষকে পৈতৃক সম্পত্তি ভাবার জন্য ।
মাইক ভেঙে ফেলি, পতাকা ছিঁড়ে
মঞ্চটাকে বানিয়ে দিই গোল্লাছুটের মাঠ।
যেখানে আর কেউ জিতবে না
রক্তের দামে,
যেখানে প্রেম হবে নিরস্ত্র,
আর মিথ্যেগুলোকে পুঁতে দেবো
শৈশবের মার্বেলের নিচে।
রাত্রি,
তুমি যদি কোথাও থাকো,
এই বুকের ভাঙা মাঠে এসো,
এখানে এখনো একটা ছেলে
খেলা থামিয়ে অপেক্ষা করছে,
রমজানের পবিত্র চাঁদের সঙ্গে
গুরু পূর্ণিমার সঙ্গম দেখবে বলে
তোমার হাত ধরে।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন