এবারের শীতেও আমি টাকা পাইনি তেমন—যা দিয়ে কাঠের
চেয়ার-টেবিল—কিনে ফেলতে পারি একটা—
মানুষ পোস্ট-অফিসে যায়, ডাকটিকিট কেনে
মানুষ পোস্ট-অফিসে যায়, টাকা পাঠায় বিদেশে—জন্মদিনে কোথাও
মোমবাতি জ্বালিয়ে কেক কাটা হয় এখনও
নরম সোফার মধ্যে সতেজ তরুণ-তরুণী ডুবে থাকে—এবং
আমি লিফটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি যথারীতি
আমার বুটজুতো পরতে ভালো লাগে না
অন্ধকার রেস্তোরাঁর মধ্যে একা একা বসে থাকতে ভালো লাগে না
আমার কোনো চেয়ার-টেবিল নেই

খুব জোরে হেসে উঠলে, দুপুরবেলায়, দূরের দেয়াল থেকে চুণ বালি
খসে পড়ে—টেঁটী-বিড়াল
লেজ উঠিয়ে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ—এমন নিঃস্ব দুপুরে
আমি কি বসে বসে চিঠি লিখবো সকলকে
আমি কি লিখবো, ভালো আছি?
ভালো থাকার জন্যে, মানুষ
খাঁকি হাফ-প্যান্ট পরে ট্রেনিং নেয়, দৌড়য় মাঠের মধ্যে
শশা খায়—সমস্ত দিন শুয়ে শুয়ে
রক্তের গম্ভীর চলাফেরার শব্দ শুনি আমি
আমার বাঁ-হাতের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে ডান হাত
ডান হাতের কথা ভাবতে ভাবতে মাথা টিপটিপ করে

ওয়াল্ট ডিজনি এসে, এক রাতে, হাত ধরে নিয়ে গ্যালো আমায় ডিজনিল্যান্ডে—
এক ছোক্রা মাড়োয়ারি, অন্যরাতে
হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকলো আমার, চেয়ার-টেবিল সমেত—
ঘুমের ভেতর ঘুম নয় এইসব, সারারাত
ফরফর ফরফর হুইসিল বাজে
ভৌতিক চেয়ার-টেবিল, ঘরময়, ঘুরে বেড়ায়—এবং
আমি হাসতে হাসতে ঢোঁক গিলি যথারীতি
আমার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে না
আমার ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে না
আমার কোনো চেয়ার-টেবিল নেই