যাবোই সখী সুজল গাঁয়ে আবার যাবো বিকেল বেলা,
সেই পুকুরের সবুজ জলে ভাসবে যখন মেঘের ভেলা।
শ্যামলা বরণ পথের বাঁকে পুষ্প নিয়ে দখিন হাতে,
গুনবো চেয়ে বকের সারি তোরেই ভেবে অপেক্ষাতে।

যাবোই সখী সুজল গাঁয়ে আবার যাবো স্বপ্ন ছানি,
হিমেল বায়ু দূর্বা শিরে করবে যখন কানাকানি।
যত্নে বেঁধে শালিক শ্যামার আহ্লাদী সুর বুকের কোণে,
দেখবো খালে ঢেউয়ের নাচন তোরেই পেতে সঙ্গোপনে।

যাবোই সখী সুজল গাঁয়ে আবার যাবো মায়ার টানে,
সভ্য ক’টা কলমি লতা দুলবে যখন ডাগর ধানে।
রোদের দামে শঙ্খ চিলের ভাবনা কিনে স্বাধীনচেতা,
খুঁজবো ঘাসে তোরেই দিতে লাল ফড়িঙের আদিখ্যেতা।

যাবোই সখী সুজল গাঁয়ে আবার যাবো মেলতে হাসি,
ধেনুর ডাকে নদীর ঢালে জাগবে যখন কাঁঞ্চা বাঁশি।
জলদি চলা দূর হাটুরের যুগল পায়ে ছন্দ রোপে,
গাঁথবো ভুখা কথার মালা তোরেই দিতে গর্বে সঁপে।

যাবোই সখী সুজল গাঁয়ে আবার যাবো হোক না শেষে,
মাখবে গায়ে মিহিন ধুলি বৃক্ষ যখন ভালোবেসে।
মাছরাঙা আর পানকৌড়িটার বক্র নজর চুপটি কাড়ি,
আঁকবো পটে তোরেই স্মরে আসমানীর ওই লালচে শাড়ি।