তার যোনীটা একটা পোড়া মাটির পাত্র,
যেখানে কাম জমে গলে পড়ে —
আঠালো রক্তের মত।
মাছিঘেরা মিষ্টির মতো ফেটে গেছে তার অন্তর,
যেখানে পুরুষেরা পেরেকের মতো নিজেদের পাপ গেঁথে দিয়ে চলে গেছে।
তার উরুর ফাঁকে ছড়িয়ে আছে
ভেজা মাটি, পচা মাংসের গন্ধ —
আর মানুষের আদিম লালসার অন্ধকার খুনসুটি।
তার স্তনগুলো যেন ছিঁড়ে পড়া ঝুলন্ত আম,
যেখানে কামনার শুঁয়োপোকা দংশন করে গেছে বারবার,
নখের দাগে চিরে গেছে তার বুকে খোদাই করা পুরুষের পাপচিহ্ন।
সেই স্তনগুলো একদিন দুধ ছড়িয়েছিল —
আজ সেখান থেকে ঝরছে নোনা ঘাম,
যেখানে মাছিরা বাসা বাঁধে —
যেন দেহের এই ভাঙা সভ্যতা তাদের রাজ্য।
তার চোখের পাতায় পড়ে থাকা অশ্রুগুলো
ঠিক যেন শুকিয়ে যাওয়া ঘুমের কবর,
আর তার ঠোঁটে জমে থাকা কামনার থুতু
পুড়ে পুড়ে হয়ে গেছে কাঁকড়ার খোলস।
সেই শিশুটির কথা মনে আছে?
যার কপালে ছিলো সিজদার দাগ,
কিন্তু নামাজের ঘুমে যখন মাথা রেখেছিল সে,
তখন তার মগজ ফুটো করে
একটা শীতল বুলেট ঢুকে গিয়েছিল —
তার পিঠের উপর ফুলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল
গরম, টাটকা রক্ত।
পাশে পড়ে থাকা টুপিটা ঠিক যেন
রক্তে ভেজা পতঙ্গের মৃত শরীর।
আর সেই বৃদ্ধার কথা মনে আছে?
যার চামড়ার ভাঁজে কামড়ে ধরেছিল
একটা হিংস্র কুকুর —
তার রক্তের গন্ধে মাতাল ছিল সেই জানোয়ার,
আর চারপাশের বিশ্ব তাকিয়ে ছিল
যেন তারা এক উত্তেজক নীল ছবি দেখছে —
চুপচাপ, ঠান্ডা চোখে,
হৃদয়হীন উল্লাসে।
আমি যখন আজ পথে নামি,
একজন এসে জানতে চায় —
“তুমি কেমন আছো?”
আমি বলে ফেলি — “ভালো”,
আর মনে মনে ভাবি,
আমি সেই মৃত শিশুটির অবশিষ্ট রক্ত,
আমি সেই বৃদ্ধার ছিন্ন দেহ,
আমি সেই গণিকার যোনীর ভাঙা গহ্বর —
যেখানে প্রেম নয়,
বর্বরতা শুয়ে আছে…
রক্তাক্ত শয্যার এক তীব্র ক্রন্দন হয়ে।
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন