সমস্ত সৃষ্টিই এক অপারেশন টেবিলের ক্লান্ত আর্তনাদ,
যেখানে ঈশ্বর এক শল্যচিকিৎসকের ছদ্মবেশে
প্রথম ছুরিটা বসিয়েছিলেন শূন্যতার বুকে—
তারপর রক্ত গড়িয়ে নামল সময়ের শিরা বেয়ে,
আর এক মহাবিশ্ব জন্ম নিলো রক্তাক্ত ক্যানভাসে।
আমরা সবাই আসলে অসম্পূর্ণ শল্যবিদ্যার ফসিল,
আমাদের দেহের প্রতিটি ভাঁজে এক ব্যর্থ সেলাই,
আমাদের মেরুদণ্ডের প্রতিটি কাঁপন এক ভুল অস্ত্রোপচারের ঝাঁকুনি,
আমাদের জন্ম, পুনর্জন্ম আর মৃত্যু—
সবই এক ত্রুটিপূর্ণ সার্জারির অপারগতা।
কিন্তু যে অস্ত্রোপচার চলছিল মহাশূন্যের গোপন ওটিতে,
সেই অপরিণত সৃষ্টির ভেতর
এক নীল শিরা টান টান হয়ে উঠল—
ঈশ্বর দেখলেন, তাঁর হাত কেঁপে উঠেছে,
এক বিন্দু রক্ত গড়িয়ে পড়েছে মাটি নামের এই শরীরে।
কেননা সৃষ্টির প্রতিটি শল্যবিদ্যার শেষে,
একটি দেহ থাকে যার অর্ধেক কাটা আর বাকি অর্ধেক সেলাই করা,
একটি আত্মা থাকে, যাকে টেনে তোলা হয়
এক রক্তাক্ত টেবিলের গভীর ফাটল থেকে,
আর থাকে এক জীর্ণ ঈশ্বর—
যে শেষ অবধি ক্লান্ত হাতে,
নিজের অপূর্ণ অপারেশনের ভুল ঢাকতে ঢাকতে
নীরবে নিজেই নিখোঁজ হয়ে যায়।
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন