তোমার ঘরের দেয়ালে আকাশ আয়না, বারান্দায়
মেঘের ঝাউবন দোল খায়, রোদ-জোস্নার কাব্যালাপ
তো আছেই! পোষা ময়না সকাল হলেই ‘সুপ্রভাত’ বলে
তোমাকে। সুসজ্জিত ড্রইংরুম, বিত্তের জৌলুস, বৈভব, সুখের খুনসুটি..
তোমার শুভ্র-কোমল পায়ের কাছে লুটোপুটি! বিশাল পালঙ্কে তুমি
যেভাবে সমর্পিত হও, চৈত্রের ঝরাপাতার মর্মর ধ্বণি প্রতিধ্বিণিত
হয় অকারণ! তারপরও তুমি সুরম্য অট্টালিকায় শোভিত এক সম্রাজ্ঞী!

মন খারাপ হলে তুমি চলে যাও দার্জিলিং, সিডনী, প্যারিস, নিউইয়র্ক বা
যে কোনো আলো জ্বলমলে শহরে। আটলান্টিক, প্রশান্ত বা তাসমান সমুদ্রে
পা ভেজালেও বুড়িগঙ্গার দূষিত জল তোমাকে ছোঁয়নি অনেকদিন হলো।
কোন এক ভবঘুরে কবি কবে তোমাকে ভালোবেসেছিলো, এতে
পৃথিবীর কী যায় আসে বলো? তোমার পায়ে পায়ে এতো বন্দনা, অর্ঘ্য।
নির্ঘাত বলে দিতে পারি তোমার মুঠোবন্দি হয়ে আছো স্বর্গ!

আকাশ আয়নায় মুখ দেখো রোজ। তারপরও
কেনো করো হারিয়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাসের খোঁজ? কে কখন্ কী লিখলো,
সব হারিয়ে কী শিখলো-এ নিয়ে কেনো তোমার গোপন কৌতুহল?
আবেগের রঙ এভাবে ছড়ালে, গড়াবে কোথায় জানো, কোথাকার জল!
পরাজয় জেনে, জীবনের সব লেনদেন মেনে-নিঃস্ব কবি
নিয়েছে তার পথ চিনে। সে কি পারতো তোমায় মুঠো মুঠো সুখ কিনে
দিতে? কেনো মধ্যরাতে একাকী ভাসো লবণাক্ত জলপ্রপাতে?