গহীন অন্ধকারে পড়ে থাকা আমি এক জগদ্দল পাথর!
কখন কোথায় কেন পৃথিবী আলোকময়, কোথায়
সৃষ্টি, কোথায় ক্ষয়? বা কে অল্পতেই হাউমাউ করে
কাঁদে, কে সব হারিয়েও নীরবে সয়-এসব কথা রাখিনা
টুকে। কখনো ঈর্ষা করিনি তোমার সুখে! আমি
পথের ’পরে পড়ে থাকা এক বির্বণ পাথর!
বৃষ্টিজলে-বর্ষায় ডুবে, পুড়ে খাঁক খরতাপে। পথিকের
পদতলে পিষ্ট হয়েছি কত, তবু নির্বাক-অবনত,
হইনি বিষণ্ন-কাতর! প্রখর সূর্যালোকে শিশিরের মত
অস্থিত্বহীন আমি, অথচ ভোরের নরোম আলোর
মত স্বপ্নের বিহবলতায় হতে চেয়েছিলাম
তোমার অন্তর্যামি! মিলেছে কেবল অট্টহাসি-উপহাস, আমি
পথের ধূলোয়, সুরম্য প্রাসাদে তোমার বাস। আকাশের
ডাকবাক্সে গোপন দীর্ঘশ্বাস রেখে দেখি সপ্তর্ষি-নিহারিকা, ভরা
পূর্ণিমার রাতে জোছনা মেখেছি যত হয়েছে কুহেলিকা!

তোমার খোঁপায় নক্ষত্রের ফুল! আমি এক নিদারুন
ভুল?দ্বিমত করিনা, ভুল করেই তো ভুল ভালোবাসা! ভুল
ঠিকানায় ফুল রেখে আসা! হিসাবের খাতায় শুন্য-হাবিজাবি!
প্রবঞ্চিত হলেও তুলিনি কোন দাবি। লবণাক্ত জলপ্রপাতে
অন্ধ হয়েছে চোখ, তবু বলেছি, ‘তোমার মঙ্গল হোক!’
তারপরও আমার অন্ধ চোখে রঙধনু রেখে যদি
বলো, ‘আঁকো অমর্ত্যরে জলছবি!’ মিনতি করে বলছি,
আমি শিল্পী নই, অবহেলিত এক দ্যুতিহীন পাথর, ব্যর্থ কবি!