আমি হিমাঙ্কের নিচে জমাট তুষার, তুমি
সুর্যের মত গনগনে আগ্নিবালিকা। আমি কক্ষপথের নির্দিষ্ট
বৃত্ত, তুমি আলোকবর্ষ দূরের সীমারেখাহীন অসীম
নীলাভ। তুমি ঘাস ফড়িংয়ের দুরন্ত লম্ফ-ঝম্ফ, আমি
অলস দুপুরের গুমোট মৌনতা।

আমি অরণ্যের ঝরাপাতা-বিবর্ণের বিলাপ, তুমি
সবুজের সমারোহ-দূর্বাঘাসে শিশির মুক্তো। আমি
একাকীত্ব, অকারণ বিষণ্নতা, অবহেলা, নিঃসঙ্গ কেউ।
তুমি তুমুল কোলাহল, উৎসব মুখরতা, উচ্ছ্বাস-প্রাপ্তি,
হামলে পড়া আনন্দের ঢেউ!

তুমি কখনও সমুদ্র, কখনও আকাশ, নক্ষত্র, রঙধনু,
গন্তব্য জানা পথ..! আমি কুয়াশা, মলিন হতাশা,
দিকভ্রান্ত পথিক, অচল পয়সার মত অপাংক্তেয়, শ্লথ..।
তুমি আলোর বিচ্ছুরণ, আমি নিকষ অন্ধকার। আমি
উতলা দমকা হাওয়া হলে তুমি হও পাষাণ
প্রাসাদের বন্ধ দ্বার। তুমি জীবনের ক্যানভাসে স্বপ্নের
রঙে আঁকো জীবনের বিমূর্ত জলছবি। আমি জীবন
বিমুখ ভবঘুরে, ব্যর্থ কবি। বিত্ত-বৈভবে তুমি
দীপ্তিময়, আমি কর্দপহীন, নিষ্প্রভ, অনাহুত পরাজয়!