আমার একটা দীর্ঘশ্বাস ঘুড়ি হয়ে উড়ে গেছে
নীলাভ দিগন্তে। আমি সূতোহীন নাটাই পড়ে আছি
তুমুল কোলাহল মুখর আলো ঝলমলে এক জৌলুসময়
শহরে, অরণ্যের গুমোট নীরবতার মতো। ঝরা
পাতার মতো শুয়ে আছি আপন নিঃসঙ্গতায়, অথচ
নাইটক্লাবগুলো থেকে নর্তকীর উদ্দাম নৃত্য শহরের গলিপথ
খেয়ে পড়ে আমার ওপর। আমি চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা
অনড় পাথর, বিরহে পুড়ে ভীষণ কাতর!

কতকাল এভাবে পড়ে আছি, কে জানে! কত অর্থ
নিরর্থক হয়েছে, আবার অনেক অর্থের খুঁজিনি মানে। দমকা
হাওয়ার মতো অপাংক্তেয় এক জলকন্যা এসে
আমাকে ছুঁয়ে হয়েছে নক্ষত্র-নীহারিকা, কখনো সংকুল
সমুদ্রে বাতিঘর। আমি অবলীলায় আমার যত পাপ দিয়েছি তুলে,
স্বপ্নভূক জলকন্যা আমাকে চুঁয়েছে নির্মোহ ভুলে। জলকন্যার
কাছে চাই জল, সে দেয় জীবনের স্বরলিপি, স্বপ্নের নির্যাস!
জীবনবিমুখ বিদগ্ধ প্রাণে হয় কি বলো স্বপ্নের চাষ?

আমি দীর্ঘশ্বাস ফিরে পেতে চাই না, নিজেই হতে চাই দীর্ঘশ্বাস
জলকন্যা তুমি শিশির হও, আমি হবো দূর্বাঘাস।