একটা ঘাসফড়িং দুপুর এসে বললো,
‘তোমার পা থেকে হারিয়ে যাওয়া এক নূপুর কাঁদছে
হিজল ছায়ায়।’ কী এক সম্মোহনে, আমি ছুটলাম
স্বপ্নাবিষ্ট মায়ায়। কতবার হিজল গাছে ওঠলাম-নামলাম,
কতটা পথ এগুলাম, কতটা যে থামলাম! হিজল
ছায়ায় ও ছায়াপাথে তন্নতন্ন করে খুঁজলাম তোমার
নূপুর। গ্রীষ্মের দাবদাহে পুড়ে খাঁক দুপুর! তোমার
দু’চোখ জল টলমল পদ্মপুকুর!

নক্ষত্র নিহারিকা ঝরে যেতে যেতে রাতের কার্নিশে
লিখলো, ‘তোমার স্বপ্নের স্বরলিপি ছন্দ হারিয়ে
হয়েছে রাত জাগানিয়া গান।’ যে গানে বিরহের মূর্ছনা
কেবল, গহীন অরণ্যের নির্জনতার মতো একাকীত্ব
বিধুর। কে জানে, কোথায় ফুরিয়েছে জীবনের কলতান!
পথের পর পথে, দ্বিগি¦দিক ছুটলাম মনোরথে, আকাশ
দিগন্তে নেমে পাতে ফাঁদ! স্বপ্নবিহিন তোমার
মুঠোতে জমে রইলো স্বপ্ন হারানোর অবসাদ।

আমি আবেগের মদিরতায়, জীবনের শিল্পময়তায়
তোমাকে খুঁজি স্বপ্নের অনুরণনে বর্তমানকে বদলে দেয়ার
জন্য যুজি। তোমাকে খুশি করতে হই ভোরের দুর্বাঘাস,
শিশিরের উচ্ছ্বাস, বহতা নদী, পাখির গুঞ্জন..কত কি!
সব কিছু হয় স্বপ্নের মতো কি? তুমি আমার কাছে
চাও নূপুর, স্বপ্নের স্বরলিপি, আছে আরও অভিলাস! কী করে
বলি, আমি অন্য জীবনের বরপুত্র, এই জীবনের পরিহাস!