ঃ তোমাকে দেবো রোদেলা সকাল, গুমোট দুপুরের
উদাসীনতা, হিরন্ময় বিকেল বা চাঁদের আগুনে দগ্ধ নিঝুম রাত!
দিতে পারি মেঘের কাশবন, বৃষ্টির রাগ-সঙ্গীত বা
বৈশাখী ঝড়ে আম কুড়ানোর দস্যিপনা। তোমার জানালায় টাঙ্গিয়ে দিতে পারি
আকাশের ক্যানভাস, নক্ষত্রগুলো গোল্লাছুট খেলবে তোমার
ঘরে-বারান্দায়, যখোন তখোন। তোমার ড্রইং রুমে সজ্জিত কৃত্রিম গাছগুলো
সরিয়ে সেখানে নিখাঁদ আবেগের ফুলদানীতে সাজিয়ে দিতে পারি
অপ্রকাশিত স্বপ্নের পারিজাত ফুল। তুমি চাইলে, পিরামিডে বন্দি মমিগুলোকে দিয়ে
গাওয়াতে পারি কীর্তণ, হামদ-নাত বা হারানো দিনের গান।

ঃ হা, হা, হা। কেনো যে আমাকে কথার জলপ্রপাতে ভাসাও? আমার-ই ওপর
আছড়ে পড়ে বুঝি তোমার কাব্য শক্তি? স্বীকার করছি, তোমার
কব্যিকতায় জেগে উঠে এক ধরনের ভক্তি।

ঃ তুমি যেন নিঝুম দ্বীপ বা নিঃসঙ্গ সৈকত। ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়ি
আমি, তোমার দিকে এগুতে কখনো কি থামি?

ঃ ফের কাব্যিকতা! কাব্যিকতা হচ্ছে কল্পনার বিলাসিতা।

ঃ কাব্য ছাড়া কবির কী আছে? কবির কাছে সকলে কবিতাই তো যাচে। তুমি কি চাও না তা?

ঃ না, না। আমি শুধু কবিতা চাই না। কবিকেও চাই। তাইতো নিয়তির দিকে হাত বাড়াই। তুমি ডাকলেই, আমি থমকে দাঁড়াই। পেয়েছো তুমি জবাব।

ঃ লা-জবাব! বোধের মন্দিরে সুষমা ছড়ায় অপ্রাপ্তির অনুতাপ।
পবিত্র যা ভাবি, সমাজ বলে, সমাজের দেয়াল ভাঙা পাপ!

ঃ আর কথা নয়, এসো কিছুক্ষণ থাকি চুপচাপ।