এক কাক জ্যোৎস্নার রাতে
তুমি সম্রাজ্ঞীর কণ্ঠে আমার কাছে চাইলে অর্ঘ্য।
অনেক অবহেলার পর আমার প্রতি এটাই
ছিল তোমার প্রথম প্রশ্রয়। আমি নিজের সবটুকু দীনতা
দু’ পায়ে মাড়িয়ে ছুটলাম, দিগি¦দিক!

তোমাকে এনে দিলাম মেঘের পোড়া গন্ধ,আকাশ আয়না,
সমুদ্রের বিশালতা, অরণ্যের রহস্য..। এমন কী,
নাগরিক সভ্যতার জৌলুস! আরো দিলাম,
সুর্যোদয়ের গান, ধর্মপ্রাণের প্রার্থনা, কবির শব্দ বিলাস,
পাখিদের বিবাদহীন জীবনের কথামালা।

তোমাকে মুগ্ধ করে দিতে যুদ্ধবাজদের বসিয়ে
দিলাম কাব্য জলসায়, সৈনিকরা মরণাস্ত্র
ফেলে ভর্তি হলো শিশুদের স্কুলে। নিজেকে তোমার
যোগ্য করে নিতে পৃথিবীর তাবৎ মানুষের
দুঃখগুলোবানিয়ে দিলাম আতশবাজির ব্যাঞ্জনা!

তোমার দু’ পায়ের সামনে স্বপ্নরেণু
ছড়াতে ছড়াতে আমি স্পর্শ করলাম তোমাকে।
এতেই কঁকিয়ে উঠলে তুমি! মমি হতে হতে
তুমি বললে, ‘এ সবই ভ্রান্তি বিলাস!’ সে থেকেই
আমি হলাম লাবন্যহীন এক পাষাণ পাথর।