এক বুক শূন্যতা নিয়ে
কেটে যায় ঘুমহীন রাত,
চোখের পাতায় জমে থাকে
অগণিত না-বলা কথা।
ঘড়ির কাঁটা থেমে থাকে না,
কিন্তু সময় থেমে যায়
তোমার নামটা ভাবলেই।

​কাঁঠাল কাঠের খাট
নীরবে সহ্য করে আমার অস্থিরতা,
জানলায় ঝুলে থাকা পর্দাটা
প্রতিদিন একটু একটু করে
আমার মতোই ফিকে হয়ে যায়।
হাওয়া এসে ওটাকে নাড়িয়ে দেয়,
ঠিক যেমন তোমার স্মৃতি
আমার মনে নাড়াচাড়া করে।

​জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয়
রুপালী জোসনার চাঁদ,
সে চাঁদ জানে না
কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে তার আলো।
এই আলোর মধ্যেই
তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে খুব,
মনে হয়—
এই আলোতেই বুঝি তুমি
সবচেয়ে বেশি আমার।

​চাঁদের আলোয় তোমার মুখ
আমি কল্পনায় এঁকে নিই,
চোখ দুটো শান্ত, যেখানে একটুও আশা বেঁচে নেই,
শুধু জমাট বেঁধে আছে তীব্র অভিমান,
যা আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—
তুমি কতটা দূরে, কতটা অধরা।

​তবুও আমি হাত বাড়াই
কিন্তু ছুঁতে পারি না—
মাঝখানে শুধু শূন্যতা,
আর অদৃশ্য দেয়াল।
তোমার মনের চারিপাশে
বিভীষিকাময় কাটাতারের বেড়া,
তাতে ঝুলে আছে
পুরোনো আঘাতের স্মৃতি।

​তাই যতবার আমি—
তোমার কাছে যাই,
ততবারই বুকের ভেতর
কিছু একটা ছিঁড়ে যায়।
আমি জানি,
এই রক্ত আমারই,
এই ক্ষত আমারই প্রাপ্য—
কারণ আমি ভালোবাসতে শিখেছি
ভয়ংকরভাবে।

​প্রতিবার রক্তাক্ত হয়েও
আবার ফিরে যাই তোমার দিকে,
কারণ ভালোবাসা
পিছনে হাঁটতে জানে না।
ঘুম আসে না আর,
রাতের পর রাত
আমি জেগে থাকি
তোমার না-পাওয়া স্পর্শ নিয়ে।

​চাঁদ ধীরে ধীরে সরে যায়,
ভোরের আলো এসে জানায়—
আরেকটা রাত শেষ,
আরেকটা না-পাওয়া দিন শুরু।
তবুও বুকের গভীরে
ভালোবাসা রেখে দিই,
যদি কোনো একদিন
কাটাতারের বেড়া খুলে যায়,
যদি কোনো এক রাতে
চাঁদের আলো আর রক্ত
একসাথে ঝরে না পড়ে—
সেদিন হয়তো
আমি তোমাকে ছুঁতে পারব
ব্যথা ছাড়া।

​আর যদি না পারি,
তবুও এই কবিতার ভেতর
আমি বারবার তোমার কাছে যাব,
কারণ এখানে
রক্ত ঝরলেও
ভালোবাসা মরে না।