ফালগুনী রায়

কবিতা - আমি মানুষ একজন

ফালগুনী রায়

আমি মানুষ একজন প্রেম-পেচ্ছাপ দুটোই করতে পারি

দুঃস্বপ্নের পিঁচুটি পরিষ্কার আর তৃষ্ণা মেটাবার জন্যে

ব্যবহার করতে পারি জল দুরকমভাবে-শোক ও শান্তিতে

ব্যবহার করতে পারি মদ দুরকমভাবে-আমি

মানুষ একজন জরায়ু থেকে চিতা ওব্দি হাঁটতে হাঁটতে

নিসর্গের রেফ্রিজেটার থেকে আমি তুলে আনি

আমার নিজস্ব আত্মা-

না পচন করে না গ্রাস তাকে-সে

গনিকালয়ের পথে অহেতুক হেঁটে মনে রাখে প্রেমিকার প্রতিমার স্মৃতি-

মনে রাখে যে শরীরে তার আশ্রয় এখন সে

শরীরের মেধাময় মাথার ওপর কখনো ফাঁসীকাঠ কখনো কড়িকাঠ

কানের পাশে কখনো রবীন্দ্রনাথের গান কখনো ব্রেন কিম্বা মেশিনগান

আর কখনো

কেবলি আকাশ আর রৌদ্র আর সূর্যাস্তের নদী

আর অন্ধকার

অন্ধকার আকাশে সে দ্যাখে প্রেমিকার নক্ষত্রচোখ আর চোখের

গনিকাদৃষ্টির রাধিকারূপ আমি মানুষ একজন গালাগাল খাওয়া আর

দেওয়া দুটোই করতে পারি

আমি মানুষ একজন

এখন যে শরীরে থাকি সে শরীর ছিল তার

বাবামার শরীরে এবং কি আশ্চর্য তার

বাবামার শরীর ছিল তাদের

বাবামার শরীরে-আরো আশ্চর্য তাদের

বাবামার শরীর ছিল তাহাদের

বাবামার শরীরে-আহা-কে বলবে আজ আর

প্রথম ভ্রুণের দিন ছিল আমার মত কতজন মানুষ

তার মত মানুষী

আমি আর কবিতা লিখতে পারি না আজকাল কিন্তু

দ্যাখো নারী-তোমার সান্নিধ্যে এলে আমি পাই

আমার ঈশ্বরী-তোমার নিকটে গেলে আমিই কবিতা হয়ে যাই মনে হয় লম্পটেরও ভালবাসা থাকে আর আমি এখন যে শরীরে থাকি সে কুঁচকে গ্যাছে কর্কশ ভীষণ থ্যাঁৎলানো

কিন্তু তার মাথায় গিঁথে থাকা জ্বলন্ত মোমের আলোয় সে দেখেছে শোকগ্রস্থ

শরীরেও থেকে যায় অ্যামিবার প্রাণবন্ত প্রাণ

না বাপু-আমি ঈশ্বর কিমবা শূয়ারের সন্তান নই

স্রেফ মানুষের বাচ্চা-আপনিতুমিসেতাহারা রয়ে গ্যাছে

আমার ভেতর-আমার ভেতরে আছে স্মৃতির কবর

শব্দের অন্তহীন খনি আর পরমব্রহ্মের অণ্ডকোষ

ধরে ঝুলে থাকা আস্তিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাসভূমিতে

আমি একা উদোম ন্যাংটা ঘুরে বেড়াই বিশ্বাসবিহীন

খুব সহজ নিশ্বাসে-

কিন্তু দীর্ঘনিশ্বাস যখন লোকচক্ষুর আড়ালে ছাড়ি

তখন তুমি নারী

তুমি দেখো না সেই কামুক জন্তুটার চোখে কি রকম জল থাকে যার অপর নাম অশ্র“

শেষ পর্যন্ত আমি দেখলুম যে গঙ্গার জলে আমি করছি পেচ্ছাব সে গঙ্গার জলেই আমি

সেরে নিচ্ছি স্নান

যে মেয়েটিকে বলছি বেশ্যা-তার ভেতরই

খুঁজে পাচ্ছি জায়া ও জননী-

আমার চ্যাংড়া আত্মা কিন্তু নীলকণ্ঠকে পুঁক দ্যায় আর শ্রীকৃষ্ণের

গোপিনীপ্রেমের চেয়ে ঢের বেশি ভালোলাগে

কৃষ্ণের সেই চোখ-যার দৃষ্টিতে প্রকৃতি

ছাড়াও কৃষ্ণ নিজের ভেতরে খুঁজে পেতেন রাধাকে

নারী-তুমি শ্রীরাধার চেয়ে রমণীয়া-আমি তাই কৃষ্ণের বিশ্বগ্রাসে

পাই জীবনের অন্তিম কুহক রূপক

এখানেই পৃথিবীর শুরু

চার্মিনার স্বাদ তামাকের খামার ছাড়িয়ে

এইখানে পাওয়া যায় ধোঁয়ার ভেতর

এইখানে পৃথিবীর শুরু

এইখানে গর্ভপাতকামী মানুষের মনে জাগে সন্তান প্রেম

এইখানে পৃথিবীর শুরু

নিদ্রায় নেমে আসে স্বপ্নিল জাগরণ-ঘুমের ভেতর জাগে দুঃস্বপ্নের ভূত

বিস্মৃতির জরায়ুতে সহসা ককিয়ে ওঠে ক্ষতদুষ্ট স্মৃতি

পরমাপ্রকৃতি এইখানে পুরুষাঙ্গর বন্দনায় জেগে ওঠে নারীর হৃদয়ে

এইখানে চেতনার শুরু-

পরে পড়বো
৭৭
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন