শরীর বিনষ্ট হ’লে ব্যাধির প্রকোপ কি ভাবে সম্ভব
সাড়ে বারোটার রোদ্দুরে ভোঁ বাজলে কারো টিফিন হয়-হয় কারো
রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার সময়-কালাদের রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার
দরকার পড়ে না-অন্ধদের দরকার পড়ে না ব্রাকপিকাসোর ছবি দ্যাখার
কাকমত না মর্কটক্রম-পূর্বজন্মের সুকৃতি না বর্তমানের কর্ম-কোন
ফলে আমি সিদ্ধ হব-কে বলে দেবে-হঠ ভক্তি জ্ঞান রাজ
কোন যোগী রয়েছে কোথায় মন্বন্তর শেষে আবির্ভূত মনু
যাঁর জামাতা মহামুনি কর্দম নিজের স্ত্রীর বক্ষোদেশ দেখে পেতেন
যৌন আকর্ষণ এবং তিনি রেচক পুরক কুম্ভক করে কুণ্ডলিনী শক্তিকে
করতেন জাগ্রত-বীর্যমোক্ষণের পর আমার জাগ্রত লিঙ্গ নেতিয়ে পড়ে খুব
তখন ভাবাই যায় না এটা অই ‘ভাবে’ দাঁড়াতে পারে-মেরুদণ্ডের
ভেতর দাঁড়িয়ে থাকে মানুষের আত্মপ্রত্যয়-তবু মানুষ কুঁজো হয়ে যায়
শ্রীমদ্ভাগবৎ পড়ে কেউ পুণ্য সঞ্চয় করে-কেউ ভাইবোনের
যৌন সংগমের সংবাদ পায় অই ধর্মগ্রন্থ পড়ে-পোয়াতীর পেট থেকে
বেরিয়ে মেয়েরা ফের পোয়াতী-লিঙ্গদ্বারে প্রকাশোন্মুখ
মানুষের ভ্রুণ-ভ্রুণ তুমি কি কথা বলতে পারো-চিন্তা ক্ষমতা
আছে কি তোমার-হায় আমি আর পাবো না ফিরে আমার
ভ্রুণের জীবন হায় আমি আর পাবো না ফিরে আমার
হারানো জীবন হায় আমি আর পাবো না ফিরে আমার
শহীদ ভায়ের জীবন হায় আমি জীবনকে ভালোবেসে ভুলে যাই
মৃতদের-মৃতদের কথা ভাবতে ভাবতে জীবিতদের ভুলে যাই
একটি মেয়ের প্রেম পেয়ে ভুলে যাই আরেকটি মেয়ের প্রত্যাখান
এ ভাবেই বড় হই আমি বেড়ে উঠি-আমার আঁতুড় ঘরের আয়তন
বাড়ে না একটুও-এর ফলে ম্যালথাস থিওরী না জেনেই বুঝে যাই
আমি জমি বাড়ে না মানুষ বেড়ে যায় সংখ্যায়-লুপ্ত হয়
একশৃঙ্গ গণ্ডারের দল-ম্যামথের কথা আজ মীথ হয়ে গ্যাছে
মানুষের কথা দিয়ে তৈরী হচ্ছে নতুন পুরাণ-
হে চন্দ্রজয়ী শুক্রকীট মানুষ-শুক্রগ্রহের দিকে চলে গ্যাছে তোমার
নভোযান-একদিন সূর্যের দিকে চলে যাবে কম্যুনিষ্ট ও ক্যাপিটালিস্ট
দেশের যুগ্ম-উদ্যোগ আর ভারতবর্ষের মার্কসিষ্ট লেনিনিষ্টরা
গৃহযুদ্ধে লিপ্ত থেকে মেহনতী মানুষকে করে দেবে আরো
বেশি বুরজোয়া তখন চারশো টাকা মাইনে পাওয়া
জুতোর দোকানের শ্রমিক দেড়শো টাকা মাইনে পাওয়া ইস্কুলের
কেরানীকে করবে তাচ্ছিল্য ও তারপর উত্তমকুমারের আত্মজীবনীসহ
কবিতাপত্রিকা বের করে করে ফেলবে কবিসম্মেলন
অগণন বাঙালী কিশোরের শহীদ বেদীর পাশ দিয়ে চলে যায় কলকাতায়
মাড়োয়াড়ী যুবকের আলো ব্যাণ্ড বাজীময় বিবাহ মিছিল আরো যাবে
বাংলাদেশের বাঙালীদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস পড়তে পড়তে
পশ্চিমবাংলার হিন্দু বাঙালীরা খুন করে ফেলবে হিন্দু বাঙালীদের
এই মন্বন্তরের ভেতর-মনু-কোথায় তোমার আবির্ভাব আমরা
কেবলি কি আকূতি প্রসূতি দেবাহূতির পিতা বলে জানবো তোমায়
দুর্জনের নিধন সুজনের সংরক্ষণকারী কৃষ্ণ তুমি কোথায় আমরা
কেবলি কি বৈষ্ণব পদাবলী পড়ে যাবো পর্ণোগ্রাফীর বদলে
অথবা আমরাই উত্থানশক্তি-আমরাই হবো রেনেসাঁ ও রেজারেকশন
আমরা যারা মহাযানী বৌদ্ধদের মত প্রজ্ঞাপারমিতা ওরফে নিজস্ব
প্রেমিকাকে করতে চাই শয্যা ও জ্ঞান সংগিনী আমরা যারা এম্প্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের
কার্ড করবার জন্যে যোগাড় করতে পারি না বাস ভাড়া
আমরা যারা সিনেমায় ছাড়া আর কোথাও সমুদ্রকে দেখিনি এখনো এবং শেলী ও হার্ট ক্রেন
সমুদ্রে ডুবে মারা গেছিলেন জানবার পরেও আমরা যারা
সমুদ্রকে নিয়ে কবিতা লিখি আমরা যারা মৃত্যুকে মৃত্যু না ভেবে
মনে করি ওটা জন্মান্তরের পাশপোর্ট আমরা যারা জীবনকে একটা বিস্ময়কর ঘটনা
বলে অভিহিত করি ও যৌন-জ্যামিতিক সূত্র আবিষ্কার করি
প্রজননে-সূত্রকারকে আবিষ্কারকে করতে পারি না
আমরা যারা কলমকেই বাইবেল ও রাইফেল হিসেবে ব্যবহার করি
এবং মৃত সন্তানের শোক ভুলে যাই কামোত্তেজনায় স্বার্থপরদের
কুম্ভীরাশ্রুতে ভিজে যাওয়া বিপ্লবীদের বারুদ আমরা যারা শুকিয়ে দিতে চাই
এবং কাউকে মারবেন না গাল দেবেন না এই শিক্ষা গ্রহণ করি
মাও সে তুঙের বই পড়ে আমরা যারা এবার ফিরাও মোরে পড়ে
কম্যুনিষ্ট হয়ে যাই পরোপকার বৃত্তি থেকে স্বেচ্ছায় বিপ্লবী
সেই আমরাই হব কি রেজারেকশন
অথবা পাড়ার বাবলিদের টিট্কিরি খেতে খেতে
গেন্জি লুংগী পরে রকে বসে বিড়ি খেতে খেতে
আমরা শুনে যাবো নির্বিকার
রবীনঠাকুরের গান

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন