ফালগুনী রায়

কবিতা - কালো দিব্যতা

ফালগুনী রায়

তোমাদের পৃথিবীর পাশে আমার এই স্বমারনোৎসব

আমার স্বেচ্ছামৃত্যুর এই গান

আমায় দিয়েছে এনে নির্বানের মহাসম্মান

এখানে জিভ নিরপেক্ষ শব্দ দিয়েই করতে হয় সবকিছু

পুরুষাঙ্গ জেগে উঠে হয়ে উঠে বীন

তখনি এক কালোদিব্যতা করে আক্রমণ

তার তীক্ষ্ণপ্রতিভা খরশান ফেটে পড়ে অট্টহাস্যে

উপহাসের গমকে গমকে ঝলসে ওঠে তার শব্দার্থ

শব্দ কি পরমব্রহ্ম-সব শব্দ?

গনিকাকবিতাপ্রেমযোনি কিম্বা ঈশ্বর অথবা নভোচারী

শ্লীল শব্দ অশ্লীল শব্দ শব্দ কি পরমব্রহ্ম?

জানি না জানি না কিছু তবু স্মৃতিদেহী শয়তান বলে চলে

শব্দ কথা বাক্য শব্দ বাক্য কথা কে কোথায় কোন উন্মাদ

আছ পাগল উদাসী উদঘাটন কর এই অনৈতিহাসিক

আত্মলিপি হিচিং ফিচিং এন্তার টনাকটিং নেশাহীন

মাথার ভেতর কি সব হচ্ছে এসব শুধু স্মৃতি এসে

করে গ্রাস উন্মাদ এই বর্ণমালা তখনি সহসা

ছুরি হয়ে উঠে তাবৎ অতীত আর ধারালো ছুরির

ওপর দিয়ে জীবনের হাঁটা দেখে থ মেরে যায় হঠযোগী

আমি থমথমে আকাশের তলায় দেখি জলের দিকে নেবে গ্যাছে সব সিঁড়ি কিছু দেখি না দেখি পাহাড়ি জলের মিঠে স্বাদে নদিগামী সামুদ্রিক ইলিশ মানুষের ইষ্টবেঙ্গল মোহনবাগানের সংগে জড়িয়ে ফেলছে তার রূপালী অস্তিত্ব আর যৌনতার টানে সন্দেহপ্রবণ পুরুষও নিজেকে জড়িয়ে ফেলছে ভালোবাসার সংগে

আর দেখি

নাগরিক নিয়নের আলোয়

আমার একক ছায়ার পাশে

তোমার একাকী ছায়ার বদলে

আমার শরীরে এক ল্যাজ

ডারউইন থিওরি বা ফ্রয়েডের নামের বানান ভুলে আমি রাস্তা হাঁটি আমার প্রাগৈতিহাসিক পুরুষের ছায়া হাঁটে আমার পাশে তখন আর আমার মনে থাকে না অন্যকিছু মনে থাকে না আমি কাকে চিট করেছি কে মেরেছে আমার দশ টাকা দুঃখ-কষ্টের রোজনামচা দিয়ে সাহিত্যের কথা মনে থাকে না এমনকি খোদ ভিয়েৎনাম দিবসে ভুলে যাই ভিয়েৎনাম সমস্যা

সে সময় মনে থাকে ঠিক বেলা পাঁচটার পর কলেজফেরৎ

তুমি ঘুরে বেড়াও তোমার পুরুষবন্ধু নিয়ে একা হাঁটি আমি

আর অইসব যুবকদের স্বাস্থল পাছা দেখে জাগে আফশোষ

ইস্ আমি কেন হলুম না সমকামী?

তোমাদের পৃথিবীর পাশে আমার এই স্বমারনোৎসব

আমার স্বেচ্ছামৃত্যুর এই গান

আমায় দিয়েছে এনে নির্বানের মহাসম্মান

সম্মানিত আমি তবু পথ চলি

হাঁটতে হাঁটতে খুলে পড়ে হাঁটু হতে মালাইচাকী

হাঁটুগেড়ে পড়ে যাই তবু নতজানু আর হতে পারি না কারো কাছে

প্রেমের কথা ভাবলে কনকনিয়ে ওঠে দাঁতের গোড়া

অবশ্য এসব অসুখ আমি সারিয়ে ফেলতে পারবো

কেননা আগেও মানে শরীরে ল্যাজগজানো বা সমকামী

হতে না পারার আফশোষ জাগার আগেও আমি রাস্তা

হাঁটতুম একা এবং মারাত্মক আমি আসলে

মাতৃজঠর থেকে চিতা ওব্দি হেঁটে যাবার পরেও জীবনের প্রত্যাশী

আমি হাঁটতুম-হাঁটব-হেঁটে যাবো আমি হাঁটতুম

আমার মাথার ওপরে কবি ও বিজ্ঞানীর নভোমণ্ডল

আমার শির ও শরীরের পাশে ট্রাফিকের তিন আলো

আমি মাতাল কবিদের সাথে গণিকাপল্লীর ভেতর

দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভেবেছি সাবিত্রীসত্যবানের কথা

আমার মাথা ফুঁড়ে জ্বলে উঠত জ্বলন্ত মোমবাতি সে সময়

ব্রহ্মতালুর ঘি জ্বলে যেত দাউদাউ চটাচট পুড়ে যেত সব চুল

অবশ্যই আমি সম্মোহিত করে রাখতুম অন্যদের তারা শুধু আমার অপরিচ্ছন্ন জামাকাপড় ও গাঁজাটানার পর দাড়িগোফময় মুখের রবীন্দ্রসঙ্গীত দেখতে ও শুনতে পেত তারা দেখত না চার্লি চ্যাপলিনের চেয়ে দক্ষ কৌতুক অভিনেতা হয়ে আমি কি রকম নিজেকে ভুলিয়ে রাখছি অহেতুক

কৌতুকে কিন্তু আমি দেখতুম পুরানো গল্পের মতন আমার নিজস্ব কৌতুকের ভেতরে দুঃখ-সেই দুঃখ দেখে আমি হেসে উঠেছি হো হো শব্দে সেই শব্দে ভেঙ্গে গিয়েছিল বুঝি জীবনানন্দীয় ভাড়েদের কবিতার আসর এমনকি যেসব প্রথম পোয়াতী মৃতবৎসা হবার বেদনায় হয়েছিল মূক যেসব ব্যর্থপ্রেমিক ঠিক করেছিল তাদের হারানো প্রিয়ার যোনি চিতা হতে করে নেবে লুঠ তারাও জেগে উঠেছিল-জীবনের ভাঙাসুর তাদের হয়েছিল সহসা প্রাণবাণ

কিন্তু আমি হাসি থামিয়ে দিতুম

তখনি অল কোআইট ইন দি ফিউরিয়াস ফ্রণ্ট

র্যা বোর প্যারিস কিমবা মিলারের আমেরিকা

অনায়াসে নেমে আসে তখন খালাসীটোলায়

ওকি গংগা না জর্ডন কিমবা কলোরাডো

সব কিছু মিলে মিশে হ’ত একাকার

জানা অজানার মধ্যবর্তী এলাকা থেকে কালোদিব্যতা এসে

জানাত আমায় উইমেন্স কলেজের অনার্সছাত্রী আর

হাড়কাটার বেশ্যার ঋতুরক্তের রঙ এক

ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে কালোদিব্যতা এসে

জানাত আমায় সাম্যবাদীরও প্রিয়ার

দরকার হাংরীদের মত

স্মৃতি ও বিস্মৃতির মধ্যবর্তী এলাকা থেকে কালোদিব্যতা এসে

জানাত আমায় যৌনতার কাছে গেলে নারীও হয়ে ওঠে

অমৃত ধর্ম ও অধর্মের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে কালোদিব্যতা এসে

জানাত আমায় তুমি অনন্ত তুমি আনন্দ

আজ তোমাদের পৃথিবীর পাশে আমার এই স্বমারনোৎসব

আমার স্বেচ্ছামৃত্যুর এই গান

আমায় দিয়েছে এনে নির্বানের মহাসম্মান

পরে পড়বো
৬৫
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন