ফালগুনী রায়

কবিতা - কবিতা হঠাও

ফালগুনী রায়

বিবাহ সভায় বিধবার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছি

আমি এক বেকার মাত্র ডালহৌসি পাড়ায়

পয়সার অভাবে বেড়ে গেল চুলদাড়ী

লোকে বল্ল নকল করছি রবিঠাকুর-কে কিন্তু

আমরা রবীন্দ্রসদন বা কোন ভবনের বদলে

এ বছর রকে বসে পালন করেছি রাত বারোটার রবীন্দ্র জয়ন্তী

আমাদের পেটে ছিল মদ হেঁড়ে গলায় আমাদের

সম্মিলীত গানের চীৎকার শুনে যেসব

বিবাহিতা মহিলারা স্বামীর ঊরুর তলায় শুয়ে ছিল

এবং যেসব কুকুরী সংগম শেষে ঘুমোচ্ছিল কুণ্ডলি পাকিয়ে

তারা সব জেগে উঠে আমাদের রকেতে রবীন্দ্রনাথ-কে

নিয়ে ছেলেখেলার প্রতিবাদে চীৎকার করেছিল যথাক্রমে

মানুষ ও কুকুরের ভাষায়

গ্লোব নার্সারীর কাছে আমিও দেখেছি

একটা কুকুরের গলায় কেউ পরিয়ে দিয়েছে বেল ফুলের মালা

আমরা শালা কোনো মেয়ের চুলের খোপায়

গুঁজতে পারিনি এখনো ফুল অথচ বরানগর বাজারে

দেখেছিলুম রজনীগন্ধা চিবিয়ে খাচ্ছে

বিশালান্ত ষাঁড়

এইসব দেখে শুনে ভাবি

নর্দমা যেমন হঠাৎ চওড়া হয় নদীর নিকট

অথচ কামনার সঙ্গে প্রেম মিশে গেলে যেমন

ব্যাভিচার আর ব্যাভিচার থাকে না হয়ে যায়

রাধা কৃষ্ণের ধর্মীয় যৌন উপাসনা

তেমনি যদি আমি একটু প্রসারিত হতে পারতুম

অভাব- পীড়িত জৈবিক তাড়নার কাছে এসে

তবে হয়তো নিরন্নকে অন্ন দেবার সঙ্গে সঙ্গে

তাঁকে বোঝাতে পারতুম অরণ্য পর্বত সূর্য সমুদ্র

ইত্যাদির বিশালতার অনুভবে ঠিক কি ধরনের শান্তি রয়েছে

আমি যেন আমার মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকি

নারীর যৌনতা থেকে উৎসারিত সন্তানের মধ্যে নয়

কিন্তু শব্দের শরীরে থাকুক বেঁচে

আমার চেতনা

আমার মাংসের শরীর খুব ভালো করে জানে

জীবনের মানে বেশি দিন থাকবেনা

নিভন্ত চিতায় শুয়ে থাকে রজনীগন্ধার মালা

যে যায় সে যায় যারা বেঁচে থাকে তারা দ্যাখে

পোড়া চিতা কাঠ থেকে কিভাবে খাদ্য খোঁজে উড়ন্ত চড়াই

বাড়ন্ত পুরুষ্ট দেহ একটি মেয়ে বা ছেলে যদি সঙ্গ দিত

জ্বলন্ত চিতার দিকে চেয়ে- মৃত্যু নয় যৌনতা মনে আসে

মদের টেবিলে কেউ বলে মদ খাবার সময় যদি কেবলি

হিসাব কর দলের ভেতর তবে তুমি বিক্ষিপ্ত নির্দল হয়ে যাবে

একটি নারীকে না পেয়ে একশোটি দেবদাস তৈরী হয়

শরৎ চাটুজ্জ্যের লেখনী ছাড়াই এক হাজার

উপন্যাস দুহাজার ছোট গল্প বাসে ঝোলে

সেকেন্ড ক্লাস ট্রামে বিনা পাখায় গরমে সেদ্দ হয়

পরে পড়বো
৫৯
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন