বৈশাখ তোমার খরাক্রান্ত ফাটা মাঠে আমার হৃদয়ের ছাপ- হৃদপিণ্ডের নয়
শীতের কুয়াশায় আমি মুখ দিয়ে ধোঁয়া বার করি বিনা সিগারেটে
নারীহীন বিছানায় আমি ভোরবেলা লিঙ্গোত্তেজনা বোধ করি
কার পেটে আসবে আমার সন্তান
আমি যার পেটে ভাত যোগাবো তার ?
দলীয় পতাকা ছাড়াই আমি বেঁচে আছি মেয়েমানুষের
ভালোবাসা ছাড়াই আমি বেঁচে সাড়েবারোটার
রোদ্দুরে রবীন্দ্রনাথের গান শোনার জন্য আমি বেঁচে আছি।
না আমি রবীন্দ্রনাথ হতে চাই নি কোনদিন না আমি সুমিতাকে ভালোবাসতে
চাই নি কোনদিন তার শরীর চেয়েছিলুম না আমি মিতার শরীর
চাইনি কোনদিন তার ভালোবাসা চেয়েছিলুম কিন্তু কিছুই হয়নি আমার
অবশ্য বাংলাদেশ থেকে খানসেনা টঙ কিঙ উপকুল থেকে মার্কিন মাইন
এবং কলকাতায় বালির বস্তার আড়াল থেকে সি আর পি-রা সরে গেছে
চীন নিক্সান ট্রিটি হয়ে গ্যাছে চাঁদে জীপ ভারতে গম ভিয়েতনামে সৈন্য
ও অলিম্পিকে প্রতিযোগী পাঠিয়েছে সাদা কালো আমেরিকা
হিন্দু বাঙালীরা
হিন্দু বাঙালীদের
মেরে ফেলেছে
কলকাতায়- তারপর
নেতাজী
লেনিন ও
গান্ধীর স্ট্যাচুর
পাদদেশে সভা করেছে শহীদমিনারের শোভাযাত্রীরা- অর্থাৎ-
অনেক ঘটনা ঘটে গ্যাছে কিন্তু আমি চাকরি পাইনি
তাই বউ পাইনি
হি হি হি হি হি
টাকা না দ্যাখালে বেশ্যার দালাল ও পাত্রীর অভিভাবক
কেউই তাদের মেয়েদের ছেড়ে দ্যায় না আমাদের হাতে
কিন্তু এই গণিকা সভ্যতার ছাই গায়ে মেখে আমরা কি সবাই
ল্যাঙটির তলায় লিঙ্গ গুটিয়ে রেখে সন্ন্যাসী হয়ে যাবো?
শহিদদের জন্যে শোকাশ্রু ফেলে মন্ত্রী হয়ে যাবো?
ভোট দিতে গিয়ে একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে আমি মরে যেতে দেখেছিলুম
ভোটের লাইনে কিন্তু তার নামেও পবিত্র পড়েছিল ও তার র্যাশনকার্ড
বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ভালো পথ্য চিকিৎসা পেয়েও আমার বাবা মারা
গেছিলেন এবং তাঁর র্যাশন কার্ডও বাজেয়াপ্ত হয়- আমি দেখে ফেলেছি
শোকের ভেতর গরীব বড়লোক বা বুর্জোয়া কম্যুনিস্টের কোনো পার্থক্য নেই
তবু কারো মৃত্যু পাখীর চেয়ে হাল্কা
তবু কারো মৃত্যু পাহাড়ের চেয়ে ভারী
হায় ভারতবর্ষ! আমার মৃত্যু ভারী বা হাল্কা হবে
হায় ভারতবর্ষ ! আমি শব না শহীদ হব- অথবা মৃত্যুর কারণ জানতে গিয়েও
বুদ্ধদেব যে রকম মারা গেছিলেন আমি কি তেমনি মরে যাবো?
মৃত্যু-তুমি কি কেবলি বিনাশমাত্র না কি তুমি জন্মান্তরের পাশপোর্ট?
কে বলে দেবে আমায় প্রকৃত পথ কোথায়?
হৃদপিণ্ডে কে দম দিয়েছে- হৃদয়ের দাম কে দেবে আমায়?
অসুখ হলে পথ্য চিকিৎসা কে দেবে আমায়?
খিদে পেলে খাবার কে দেবে আমায়?
প্রেম জাগলে নারী কে দেবে আমায়?
রাষ্ট্র কি সব কিছু দিতে পারে-
লাষ্ট বয়কে ফাষ্ট বয় করে দিতে পারে সাম্যবাদ?
বাজে কবিকে ভালো কবি করে দিতে পারে সমাজতন্ত্র?
তবুও বৈদিক স্তোত্র সংগচ্ছধ্বং সংবদধ্বং ইত্যাদির মানে
আমাদের গতি এক হ’ক
আমাদের ভাষা হ’ক
আমাদের চিন্তা এক হ’ক… এই হায়ার কমিউনিজম
মার্কস জন্মাবার চার হাজার বছর আগে ভেবে গ্যাছে ভারতীয়রা
আমাদের আহার এক হ’ক
আমাদের বসন এক হ’ক … চমৎকার চমৎকার
কিন্তু এই শুনে যদি কেউ বলে ওঠে তবে আমাদের স্ত্রীরাও এক হউক তখন
মানে মানে আমি কেটে পড়বো কারণ নারী সংগম আর গরুকে
পাল খাওয়ানো আমি কিছুতেই এক ভাবতে পারি না
তাই মায়ের দুধ খেয়েও আমরা মায়ের মাংস খাবো না কোনো দিন
কিন্তু গরুর দুধ খেয়েও আমরা গরুর মাংস খেয়ে ফেলেছি।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন