প্রায় কুড়ি বছর ধরে আমি বৃন্দাবন আসি। আমি কোন ধার্মিক মানুষ না। বরং বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী। ভাব বাদী নয়। তবুও এখানে আমি খুব ভালো ভাবে ঘুমাতে পারি। একটা অজানা কারণে। তবে তুমি বলবে এটাও অর্থনৈতিক। একটি একা মানুষের  কিবা চাহিদা থাকে?? খাওয়া , দাওয়া, জামাকাপড়, আর থাকার জায়গা। কোন  চিন্তা নেই এখানে তাই আমি নিশ্চিত খুব এখানে।কিন্তু আজ প্রথম আমি ঘুমাতে পারলাম না।  মনে মনে অনর্গল কথা বলে গেলাম তোমার সাথে। পাগলের মতো।  

আজ জীবনের গল্পটা অনেকটাই বদলে গেছে। জীবনের সব হিসাব নিকাশ শেষ করে ব্যালেন্স শীট বন্ধ  করে নতুন একটা জীবন শুরু করেছি।জানি হয়তো কোন দিন তুমি আমার হবে না। তবু তোমাকে হারানোর ভয় আমাকে ঘুমাতে দেয়নি কাল। তুমি আমার কাছে একটা মিথ্যা আশা হয়তো। তবুও এ আশা টুকু আমাকে ভালো রাখে।

তোমার জ্যাঠা মেয়েকে  রিয়াকে আমি তোমাকে নিয়ে কোন দিন তেমন কিছু বলি নি। তোমার রাগ হওয়া স্বাভাবিক। সদ্য বিবাহ বিচ্ছেদের হয়েছে। নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করায় বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছো তুমি। আত্মবিশ্বাসী তুমি একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছো নিজের সমস্যা গুলোর বিরুদ্ধে। অথচ পান থেকে চুন খসলেই কত সমলোচনা করে লোকজন। তাই নতুন করে কানাঘুষা শুনলেই তোমার মাথা গরম হয়ে যায়।

বিশ্বাস করো আসলে আমার জীবনটা খোলা বইয়ের মতো। কিন্তু এই বই এর একটা অধ্যায় আমি কখনো কাউকে পড়তে দিই না সেটা হলো তুমি। তোমার অজানা নয়,  তোমার বোন রিয়ার জন্মদিন আমি তুমি তোমার ভাই ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম। সেইদিন তোমার মল্লিক দা আমার সাথে অনেক দুর্ব্যবহার করেছিলো। এবং দীর্ঘদিন তাই আমাদের কথা বন্ধ ছিল। তাই তোমার প্রতি আমার দূর্বলতা কথা আমি গোপন রাখি।
গত বইমেলায় রিয়া আমার সদ্য প্রকাশিত গল্পের বইটি  কেনে ।
বই প্রচ্ছদটা তুমি এঁকেছো দেখে প্রথমে যে কথাটি বলেছিলো সেটা আমাকে অবাক করেছিলো। সেটা হলো "তুমি  যতোই চেষ্টা করো, ও তোমাকে  কোনদিন পাত্তা দেবে না। কারণ ও জানে তুমি আমার বয়ফ্রেন্ড।"
আমি আকাশ থেকে পরেছিলাম। আমি প্রথম জিজ্ঞেস করেছিলাম ওর হঠাৎ এরকম চিন্তা ভাবনার কারণ কি? এমনকি আমার প্রাক্তন স্ত্রী  ওকে পড়িয়েছেন। পড়ে বুঝতে পারলাম। ওর দোষ নাই। তাপস বাগের মতো কিছু মানুষেরা ওর সাথে প্রেম প্রেম খেলা খেলে  যাদের নিজেদের ওর বয়সী মেয়ে আছে। তাই আমার আর ওর বয়েস পার্থক্যটা ওর চোখে পরে নি।
একটা উলঙ্গ স্বার্থপর চিন্তা ভাবনা ও আমার সামনে তুলে ধরলো। তুমি তো জানো আমার অনেক গুলো ছোট হাতি মানে লাইটগুড ভিক্লেস আছে। তোমার জ্যাঠা মিন মাছের  ব্যবসায় আমার গাড়িগুলো ভাড়া খাটে। আমি ঘুরতে ভালোবাসি। তাই তোমার জ্যাঠা মল্লিকদার মিন মাছের ডেলিভারি করতে উত্তর প্রদেশে, বিহারে অনেক বার গেছি। ঐ সব জায়গায় মানুষরা মাছ তেমন খায় না। ওখানের জলাশয়ে মাছ বড় করে। কলকাতা, মুম্বাই মতো শহরে মাছ নিয়ে আসা হয়। যাইহোক ব্যবসাটা আমি ভালো বুঝে গেছি। ও ঠিক প্রেম প্রস্তাব দিলো না ও বললো। তুমি আমাকে বিয়ে করলে তুমি বাবার ব্যবসা অনেক বেশি উন্নত করবে। তাই আমি তোমার সাথে রিলেশন আসতে চাই।

আমি ওর সব কথা  নিয়ে মাথা ঘামাই নি। শুধু মাত্র হাল্কা করে দাদা বৌদি জানিয়েছি। তাপসবাগ বই মেলায় ওর সাথে দেখা করতে এসেছিলো। এবং ওকে চোখে চোখে রাখতে বলেছিলাম। আর তোমার সাথে দেখা করতে নিয়ে যাই যাতে ও তোমার একটু ছোঁয়ায় থাকে।
তুমি বলবে তোমার ছোঁয়ায় থেকে লাভ কি?  আমার চোখে দিয়ে  দেখলে দেখবে তুমি একটা পজেটিভ  ভাইভা। তুমি আমার কাছে একটা প্রেরণার মতো। তাই ভেবেছিলাম তোমার স্পর্শ থাকলে ওর কিছু ভালো হবে। অনন্ত জীবনে কোন কিছু পেতে হলে সর্টকার্ট খোঁজাটা ও বন্ধ করবে।

এবার আমার কথায় আসি। তোমার জন্য আমার দূর্বলতা অনেক প্রাচীন। আমার প্রাক্তন স্ত্রী আমি এখনো  অনেক ভালোবাসি।  কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ভাঙল আমার পেশাগত কারণে।অর্থ উপার্জন জন্য আমি সব কাজ করেছি। কোঅর্ডিনেটর কাজ করতাম । এটা এমন একটা পেশা যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি, দল বা উপকরণের মধ্যে কাজের সমন্বয়ে করে একটা  ইভেন্ট বা অনুষ্ঠানকে সফল করা। এককথায় আমার মূল দায়িত্ব ছিলো, কোনো প্রজেক্ট বা অনুষ্ঠান সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবাইকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করে লক্ষ্য অর্জন করা ।

বিভিন্ন ধরনের কোঅর্ডিনেটর ইভেন্ট কোঅর্ডিনেটর প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর হিসাবে কাজ  করায় ,আমার কর্ম সুত্রে অনেক মেয়ে বন্ধু ছিলো। আমি দিনরাত কাজ করতাম,   কিন্তু বাড়িতে তেমন অর্থ দিতে পারতাম না। কারণ আমি ভবিষ্যতেকে শক্ত পোক্ত করতে চাইছিলাম।তাই ও সন্দেহ করাটাই স্বাভাবিক ছিলো আমি অন্যকোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখছি। তাই ও আমাকে ছেড়ে চলে যায়।
দূর্ভাগ্য আমাকে ছাড়া আগেই ও ভালো চাকরি পেয়েছিল। আর সেখানে  একটা বড়লোক বাপের ছেলেকে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে পেয়েছিল। তাই সকলের ধারণা ও ভালো চাকরি পেয়ে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। কারণ  তুমি যেনো আমি কিছুটা সাদামাটা ছেলে।
মুল সমস্যা কিন্তু অর্থনৈতিক তাই আমি চাকরি করতে বিদেশে গেলাম। তখন আমার বিপদ আরো বড়ালো। ও লোকজন জানিয়ে দিলো ও আর ফিরবে না।  কারণ এখন ফিরলে সবাই বলবে মানবের টাকা পয়সা হয়েছে বলে ও ফিরে এসেছে। ও হুট করে ডিভোর্স নোটিশ পাঠালো। আমি  বাধা দিলাম না, ডিভোর্স খবর পেয়ে ওর বাবা আত্মহত্যা করলো।
আমি খুব ভেঙে পরেছিলাম, তখন তুমি আমার সাথে একটু একটু কথা বলতে, মন খারাপ ভালো হয়ে জেতো। ঐটুকু ভালোলাগা নিয়ে ভালো ছিলাম। আবার এর মাঝে এক সময়,অভির সাথে ব্রেকআপ হয়েছিল তোমার। ভালোবাসা  ভাষায় প্রকাশ করা ভাষা আমার জানা নেই। আমি শুধু অর্জন করতে চেয়েছিলাম। একটা নতুন আশায় জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
তখন তাই আমি ইউরোপে চাকরি চেষ্টা করলাম।ভেবেছিলাম ইউরোপে চাকরি পেলে তোমার বাড়িতে গিয়ে তোমাকে বিয়ের এর প্রস্তাব দেবো। কিন্তু হঠাৎ সব তালগোল পাকিয়ে গেলো। তোমাদের হুক আপ হয়ে গেলো। দেখলাম তোমাকে অভি বাওলি ঘুরতে নিয়ে গেলো। তাই আশাহত হলাম। কিন্তু তুমি কথা বলতে আমার সাথে। তাই অতটা কষ্ট হয়নি আমার। মার্চে বিয়ে করলে হঠাৎ ই। কথা বন্ধ।
তারপর শুনলাম তোমার সাংসারিক জীবনে অশান্তি হয়ছে। আমি তখন ভেবেছিলাম তোমার সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু সাহস পাইনি। তুমি একা একা লড়াই করেছো কিন্তু পাশে দাঁড়াতে চেয়েও দাঁড়াতে সাহস পাইনি। কারণ আমি জানি তোমার আত্মমর্যাদা বোধ অনেক বেশি।  একটা সুযোগ এসেছিলতোমার বিশ্বাস অর্জন কিন্তু সাহস  করে সুযোগটা ব্যবহার করতে পারি নি।

তাই আজ কেন কোন দিন তোমাকে সরাসরি আমি আর বলতে পারবো না "আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।' কিন্তু আমি একটা মিথ্যা আশা নিয়ে ভালো আছি। কোন একটা সময় আমার তোমার সম্পর্কটা ভালো হবে। এই স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছি।ভালো আছি। আমি আসলে ভালো থাকতে চাই। স্বপ্ন টা মিথ্যা হলেও এ মিথ্যা স্বপ্ন টা আঁকড়ে বাঁচাতে চাই।  আসলে আমার জীবনে তুমি কোন বিকল্প নাও। তুমি একমাত্র। এবং তুমি আমার প্রয়োজন,  অন্য কেউ সে জায়গায় আসতে পারবে না। তাই আমার শুন্যতা তুমি ময়। তুমি আমার না হলেও অসুবিধা নেই। শুধু মিথ্যা আশা টুকু বেঁচে থাকলেই চলবে।

তুমি বাস্তব বাদী। এটাই।আমিও বাস্তব বাদী। আমি তোমাকে ভুলতে চাইলে ভুলতেই পারি। কিন্তু  তোমাকে রিপ্লেস করতে চাইনা কখনোই।তোমাকে অর্জন করা কঠিন। তাই এটা একটা বাহনা বেঁচে থাকার। জীবনে একটা অপূর্ণতা  দরকার ।
আমি নয় দশ বছর একা কাটিয়েছি
কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে একা থাকাটা কোন অসুবিধার নয়। আমি তোমাকে কোনদিন বিরক্ত করবো না।
আমার তোমাকে দেবার মতো কিছু নেই।
যদিও  তুমি লোভীও নয়। আত্মবিশ্বাসী যথেষ্ট।হু তোমার আশ্রয় পেলে  আমি একটু গোছালো জীবন হতো আমার।  আমার সাথে সম্পর্ক এলে তুমি কিছু পাবে না। লাভবান হবো আমিই। তাই বিকল্প খুঁজতে চাই না আমি। কারণ আমার সেটার প্রয়োজনীয়তা নেই।
কারণ আমার জীবনে দুইটি মেয়ে এসে নীলাঞ্জনা  আমার স্ত্রী তার সাথে সাতবছরে প্রেম। ওকে পড়াশুনা করিয়েছিলাম আমিই। একটা চাকুরি  আর একটা বড়লোক বয়ফ্রেন্ড পেয়ে , ও আমাকে ছেড়ে দেওয়ায় আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। আজ অনেক কথা শুনতে হয়। তাই তুমি কি কঠিন পরিস্থিতিতে আছো সেটা আমি জানি।

তোমার রূপ দেখে আমি পাগল হয়ে গেছি এমন নয়। তোমার ব্যক্তিত্ব আমার ভালো লাগে। তোমাকে আগেও বলেছি। আমি ভালোবাসি বলে শব্দটি বিশ্বাস করি না। আমরা শুধু মাত্র যোগ্যতম সাথী নির্বাচন করি।
হয়তো আমি তোমার যোগ্য না তাই তুমি আমাকে মেনে নিতে পারছো না। এটাকে আমি খারাপ ভাবে নেবো না।আমি তোমার মতো যোগ্যতার কাউকে পাইনি বলেই তোমাকে রিপ্লেস করতে পারছি না। কিন্তু আমি তোমাকে অর্জন করতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো এমন নয়। কারণ ভালোলাগাটা স্বাভাবিক আসে। জোর করে ভালো লাগাতে গেলে আমাকে পাল্টাতে হবে তোমার পছন্দ অনুযায়ী। সেটা তো সম্ভব নয়। তাই সম্পর্কটা ভালো আছে সেটাই যেমন আছে তেমনই থাক। তুমি চাইলে সম্পর্ক এখানে দাঁড়ি দিতে পারো।

তোমার বয়সটা কম। তাই তোমার কথা আলাদা আমার যে বয়স হয়েছে নতুন করে কোনো সম্পর্ক আসা চেষ্টা করাটাই বৃথা। তাই আমি আমার জীবনে একটা অসম্পূর্ণ গল্প থাকুক যেখানেই শুধু ভালো লাগা থাকুক।

তবে আমি তোমাকে আমার জীবনে রেখে দেবোই আমার মনের গোপন কোনে।
তুমি সব বোঝো সব জানো। অন্য কোন মেয়ে হলে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের কেরিয়ার গড়তে ব্যবহার করতো আমার অনুভূতিকে । তুমি তা করো নি। তুমি ঠিক আমার মতোই বোকা