“কারণ, পোশাক নেই সেহেতু আমার মৃতদেহ
ফুটপাতে পড়ে আছে | পৌরসভা বড়ই দয়ালু
চুক্তিবদ্ধ শকুনেরা বুকে নিয়ে অনবদ্য স্নেহ
গোল হয়ে বসে আছে | নাগরিক শিরঃপীড়া মুগ্ধ করে তালু |

আমার শীতল রক্ত শহরের খোলা নোংরা নর্দমার জল,
মস্তিষ্কে সাজানো আছে সবজান্তা শয়তানের বাসা,
স্বর্গে না নরকে যাব স্থির করতে পারি না কেবল
মরবার পরও দেখি বেঁচে আছি খাসা |

অর্থ যশ প্রতিপত্তি দিগ্বিজয়ী পান্ডিত্য প্রতিভা
কিছুই ছিল না, তাই চিত্পটাং হয়ে আমি আজ
নির্বিঘ্নে ঘুমিয়ে আছি | ফুলের স্তবক শোকসভা
বিব্রত করে না জেনে বড় সুখী ; সুহৃদসমান
যে যার ফিকির খোঁজে ফুটপাত থেকে বহু দূরে,
কাকের সঙ্গীত, আহা কী মধুর নির্জন দুপুরে |”

শুনেই বন্ধুরা বলে, “নৈরাশ্যবাদীর কথকতা
সামাজিক সততায় আস্থাহীন এই ভদ্রলোক
সমস্ত নৈতিক মূল্য ধ্বংস করে যায়প্রগল্ ভতা
আসুন সকলে মিলে একে আজ শূলে দেওয়া হোক |”

“জানি | সমাধান খোঁজে পুঁথিপথে যদ্যপি নির্বোধ
তারও মৃতদেহ পোড়ে আকাঙ্ক্ষার বিকল্প আঁধারে,
রৌদ্রে প্রতিপন্ন সত্য করে মৌল ঋণ পরিশোধ,
হৃৎপিন্ড নামক চিতা নিবে যায় বুকের বাঁ ধারে |

সুতরাং শুয়ে আছি শবাধার-শূন্য এই সাজানো শহরে
আমাদের মৃতদেহ, অন্ধকার, প্রতিটি পোষাক
ভেসে যাচ্ছে গোধূলির রক্তবর্ণ উদ্বিগ্ন প্রহরে
আমার শোণিতে ভেজা দৃশ্যাবলী তীব্র পরমায়ু ফিরে পাক ||”