এক একটা জ্যোত্স্নারাত প্রান্তরের দিক থেকে ফিরে এসে
ছিঁড়েখুঁড়ে নিয়ে গেছে আমার হৃদয়,
বাহুমূলে নেমে আসা চুলের ঝাউয়ের গন্ধে নক্ষত্রের অন্ধকার
শুয়েছিলো চোখের পাতায়,
বলিনি সে সব কথা, মৃদুস্বরে, ভাষায় প্রকাশ পেলে
অভিমান স্পষ্ট হয়ে যাবে,
বলিনি কিভাবে আয়ু নষ্ট হয় প্রস্তুতি বা প্রতীক্ষায়—-
ওষ্ট ও কন্ঠের তাপে, ছিন্ন পরিতাপে
গভীর গোপন রাত্রি খেলা করে, খেলা জুড়ে নেমে আসে
আপেক্ষিক কালের স্তব্ধতা |

তোমাকে লিখিনি চিঠি —- খাম ছিঁড়লে চাপা ঠোঁট খুলে যাবে,
ছোট্ট তিলে কেঁপে উঠবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাচের ঘ্রাণ ;
কখনো দেইনি ফুল জন্মদিনে —- ফুলের ঈর্ষার হাত
বড়ো বেশি স্নিগ্ধ হয়ে যাবে,
পাখি, কিংবা মৌমাছির গুনগুন যাওয়া আসা, ফিরে ফিরে
যাওয়া আসা ঘিরে
উদ্বৃত্ত উদ্বেগ নিয়ে যতটুকু মধু ঝরে অপরাহ্নবেলা
তুমি তার অতিরিক্ত কিছু দাও, তুমিতো ঘরের, তাই
ঋণী করো সমগ্র ভুবন,
ঠোঁটের অল্প ফাঁকে যতটুকু কলরোল—- যতখানি নীরবতা নত হয়—-
ভুরুর আলস্য ঘেরা কৃষ্ণপক্ষ জলে—-
আমি সেই খোলামেলা রূপ নিয়ে ডুবে যাই, ডেউয়ের সংসার
পলকে রচনা করি, নির্মাণের খুব কাছে এসে ভেঙে ফেলি
আবার গড়ার হঠকারিতায়,
ঠিক আগের মতো ব’লে খুলে ফেলি, চোখের গড়ানো জল
হাত ধুয়ে নেমে যায় চোখের আগুনে—–
এভাবে নিজের কাজে পড়ে থেকে হঠাৎ গর্জনে রাত ভীষণ অবশ হয়ে আসে—-
ট্রিগারে তর্জনী রেখে, ফুল নেই, পাতা নেই, শহরে বসন্ত আসে,
দক্ষিণের বুক ভাঙা বাতাসে
কিশোরের লাশ ঘিরে সিগারেট টেনে যায় তিনটি পুলিশ অফিসার,
খিটখিটে শুকনো স্তনে মুখ গুঁজে ঝুলন্ত কঙ্কালরাত্রি নেমে আসে
গঞ্জে ও শহরে,
কিন্তু সেই শ্মশানমুহূর্তে যদি তিরিশ হাজার ছেলে জেলের গরাদ ধরে
আমাকেই দেখে
আমি জেগে উঠি এক জ্বলন্ত শক্তির চাপে জনস্রোতে, সৈকতে নেমেছে রাত্রি
দু’পায়ে মিহিবালি ধুয়ে নিয়ে চলে যায় নীল নুন জলে
সন্ধ্যার ঢেউয়ের মধ্যে প্রতিটি ভোরের রক্ত আমাকে তাদের কথা বলে |

জানি একদিন তুমি আঁচলে জড়াবে রূপ, রূপদর্শী চোখে ও চিবুকে
বারবার কেঁপে উঠবে কেবল আমার নয় পরাভূত মানুষের
অনন্ত বেদনা বুকে নিয়ে—-
ক্রমশ জাগ্রত হবে জনশ্রুতি, গ্রাম দিয়ে ঘিরে ফেলা নগরের অস্ত্রাগার
মানুষের গরিষ্ঠ গর্জিত মহিমায়—–
তুমিও আমাকে নেবে, যেমন ভ্রমর নেয় অদৃশ্য ফুলের রেণু
বাগানের ফুলের গভীরে—-
তুমি সেই অবিরল রূপবতী, আমি ঊর্দ্ধবাহু হয়ে নতজানু কালস্রোত থেকে
তোমার সরল হাঁটু —- বিভক্ত সোনালিস্রোত
জড়াবো চুম্বনে |