ফুটেছিলে সূর্যমুখী, নরম ছিল টবের মাটি,
এখন তোমার গহন পরাগ পুড়িয়ে দিচ্ছে নীল জামাটি |
জরির আঁচল ঝিলিক দুলের, ঢেউয়ের খেলা উপকূলের
রূপ-কথাকে ধরে রাখল সারা সন্ধ্যে জমজমাটি |

রাত্রি হলে মগজ-ভর্তি দেহদ্রোহী চিন্তা আসে,
দিগন্তে লাল উল্কা গড়ায়—- কচি গরম রক্ত ঘাসে,
ঘেরাও এবং তল্লাসীতে কম বয়েসী কল্ জে ফাটায়
যখন তখন গুলি চলে যাদবপুর বা বেলেঘাটায়
মুসোলিনীর কালীপূজা — এ বকর ঈদ উল্টো ধরণ,
কল্পতরুর মিষ্টি পানে ঘনায় ঠোঁটে অল্প মরণ !
গণতন্ত্রী গণত্কাররা কোথায় তখন ভেজান গলা
সিংহরোডের গন্ডারেরা শানায় যখন ছুরির ফলা ?

তখন তুমি কী করো কী জানতে ভীষণ ইচ্ছে করে,
নব্ ঘুরিয়ে তুষ্ট ভ্রমর অশোকতরু ওষ্ঠাধরে,
খোলা থাকে ক্রীমের কৌটো চার-পয়েন্টে ঘুরছে পাখা,
ছোট্ট মতো হাই ওঠে তাও একুশ রকম মর্জি মাখা,
বুকের ঘুমে অন্ধ পাখি সাঁতার কাটে পরস্পরে,
যুগ যুগান্ত রাক্ষুসী-প্রাণ কোন পাতালে রইল ঢাকা,
ইচ্ছেকে খুন করলে কি আর তুমি আমায় পুরবে জেলে
স্বপ্ন ছিঁড়ে শর্তে এসে— বাঁচুক হাজার হাজার ছেলে |