মগ্নজীবন

লিখেছেন - মহাদেব সাহা

এই এটুকু জীবন আমি দিওয়ানার মতো ঘুরেই কাটিয়ে দিতে পারি দিগ্ভ্রান্ত নাবিকের মতো অকূল সমুদ্রে পারি ভাসাতে জাহাজ; আমার সমগ্র সত্তা পারি আমি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দিতে কোনো সুফী আউলিয়ার মতো ধ্যানের আলোয়, ঝরা বকুলের মতো পথে পথে নিজেকে ছড়াতে পারি আমি ছেঁড়া কাগজের মতো এমনকি যত্রতত্র ফেলে দিতে পারি, এইভাবে ফেলতে ফেলতে ছড়াতে ছড়াতে এই এটুকু জীবন আমি পাড়ি দিতে চাই- এই এটুকু জীবন আমি হেসে খেলে দুচোখের জলে ভালোবেসে, ভালোবাসা পেয়ে কিংবা না পেয়ে এভাবে কাটিয়ে দিতে চাই; এই ছোট এটুকু জীবন আমি বংশীবাদকের মতো এভাবে কাটাতে পারি পথে পথে ঘুরে উদাস পাখির মতো ভেসে যেতে পারি দূর নীলিমায় সুদূরের স্বপ্ন চোখে নিয়ে, পারি আমি এটুকু জীবন নিশ্চিত ডুবিয়ে দিতে গানের নদীতে আনন্দধারায়, এই তপ্ত এটুকু জীবন আমি স্বচ্ছন্দে ভিজিয়ে নিতে পারি পানপাত্রে- ধুয়ে নিতে পারি এই জীবনের সব দুঃখ, অপমান, গ্লানি, এই পরাজয়, এই অপর ব্যর্থতা, এই অখণ্ড বিরহ, এই উপেক্ষার অনন্ত দিবসরাত্রি, এই একা একা নিভৃত জীবন; এই এটুকু জীবন আমি নির্ঘাত কাটিয়ে দিতে পারি এভাবে ট্রেনের হুইসেল শুনে উদাসীন পথিকের মতো পথে, পর্বতারোহীর অদম্য নেশায় আকাশে ঘুড়ির পানে চেয়ে; এই মগ্ন জীবন আমি নাহয় নিঃসঙ্গ কয়েদীর মতো এভাবে কাটিয়ে দিয়ে যাই অন্ধকারে, অন্ধকারে।