তুমি মুখ তুলে চাওনি বলে

লিখেছেন - মহাদেব সাহা

তুমি মুখ তুলে চাওনি বলেই দেখো আমি সব কাজে মনোযোগহীন সবখানে খাপছাড়া ; তাই বহুদিন কবিতাও পড়ে আছে অসম্পূর্ণ একটি পঙক্তি মেলানো হয়নি আর তুমি ফিরে তাকাওনি বলে, কতো প্রগাঢ় ইমেজ ঝরে গেছে তোমার সামান্যতম স্নেহের অভাবে । তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে কিভাবে যে ক্ষয়ে গেছি অন্তরে-বাহিরে কিভাবে যে হয়ে গেছি নিঃস্ব, রিক্ত, উদ্দামহীন শুধু তোমার উপেক্ষা পেয়ে উৎসাহে পরেছে ভাটা, পরাজয় মেনেছি এভাবে সব প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে নিজেই নিয়েছি তুলে লজ্জার মুখোশ । ধীরে ধীরে অন্তরালে চলে গেছি সকলের অজ্ঞাতসারেই, কাউকে বলিনি কিছু, বুঝতে দেইনি এই গোপন ব্যর্থতা শুধু আমি জানি তোমার করুনাধারা ছাড়া এ জীবনে ফুটবে না মুগ্ধ কিশলয় মাথায় উঠবে না কোনো জয়ের শিরোপা, আমার গলায় কেউ পরাবে না গৌরবের মালা ; তোমার সযত্ন পরিচর্যা ব্যতিরেকে বলো নিরাময় হয়েছে কখন কার ক্ষত তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে রৌদ্রদগ্ধ হয়ে গেছে হৃদয়ের ঘন বনাঞ্চল বর্ষণ-অভাবে সেখানে দিয়েছে দেখা ব্যধি ও মড়ক, একমাত্র তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে এই গ্লানি এই পরাজয় । দিনরাত্রি হয়ে গেছে উসকো-খুসকো, এলোমেলো, সঙ্গতিবিহীন কিছুই মেলে না আর সবখানে থেকে যায় একটা না একটা ছেঁড়া তার ; তাই আমাকে বেড়াতে হয় দেশে দেশে কান্না ছাড়া আর কোন ঠিকানাও নেই । শুধু তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে রয়ে গেছি সবার পশ্চাতে কোথাও পাইনি ঠাই, সকলের কাছে উপেক্ষিত; এমনকি যতটা হেঁটেছি পথ, বিপদের মুখে ভেঙ্গেছি চড়াই সে কথাও কেউ কখনো বোঝেনি । একমাত্র তুমি মুখ তুলে চাওনি বলেই ভিতরে-বাহিরে এই অপার ব্যর্থতা শুধু তুমি মুখ তুলে চাওনি বলেই মরুভূমি গ্রাস করে এখন আমাকে