নীরার দুঃখকে ছোঁয়া

লিখেছেন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কতটুকু দূরত্ব? সহস্র আলোকবর্ষ চকিতে পার হয়ে আমি তোমার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসি তোমার নগ্ন কোমরের কাছে উষ্ণ নিশ্বাস ফেলার আগে অলঙ্কৃত পাড় দিতে ঢাকা অদৃশ্য পায়ের পাতা দুটি বুকের কাছে এনে চুম্বন ও অশ্রুজলে ভেজাতে চাই আমার সাঁইত্রিশ বছরের বুক কাঁপে আমার সাঁইত্রিশ বছরের বাইরের জীবন মিথ্যে হয়ে যায় বহুকাল পর অশ্রু বিস্মৃত শব্দটি অসম্ভব মায়াময় মনে হয় ইচ্ছে করে তোমার দুঃখের সঙ্গে আমার দুঃখ মিশিয়ে আদর করি সামাজিক কাঁথা সেলাই করা ব্যবহার তছনছ করে স্ফুরিত হয় একটি মুহূর্ত আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে তোমার পায়ের কাছে… বাইরে বড় চ্যাঁচামেচি, আবহাওয়া যখন তখন নিম্নচাপ ধ্বংস ও সৃষ্টির বীজ ও ফসলে ধারাবাহিক কৌতুক অজস্র মানুষের মাথা নিজস্ব নিয়মে ঘামে সেই তো শ্রেষ্ঠ সময় যখন এ-সবকিছুই তুচ্ছ যখন মানুষ ফিরে আসে তার ব্যক্তিগত স্বর্গের অতৃপ্ত সিঁড়িতে যখন শরীরের মধ্যে বন্দী ভ্রমরের মনে পড়ে যায় এলাচ গন্ধের মতো বাল্যস্মৃতি তোমার অলোকসামান্য মুখের দিকে আমার স্থির দৃষ্টি তোমার রেজী অভিমানের কাছে প্রতিহত হয় দ্যুলোক-সীমানা প্রতীক্ষা করি ত্রিকাল দুলিয়ে দেওয়া গ্রীবাভঙ্গির আমার বুক কাঁপে, কথা বলি না বুকে বুক রেখে যদি স্পর্শ করা যায় ব্যথাসরিৎসাগর আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে আসি অসম্ভব দূরত্ব পেরিয়ে চোখ শুকনো, তবু পদচুম্বনের আগে অশ্রুপাতের জন্য মন কেমন করে!