নার্স ১

ঘুমোতে পারি না, প্রতি হাড়ের ভিতরে জমে ঘুণ
পা থেকে মাথায় ওঠে অশালীন বীজাণুবিস্তার
ঘূর্ণমান ডাক দিই : কে কোথায়, সিস্টার সিস্টার–

‘হয়েছে কী? চুপ করে নিরিবিলি ঘুমিয়ে থাকুন।
তাছাড়া নিয়মমতো খেয়ে যান ফলের নির্যাস—’
শাদাঝুটি লাল বেন্ট খুট খুট ফিরে যায় নার্স।

নার্স ২

রাত দুটো। চুপিচুপি দুটি মেয়ে ঢুকে দেখে পাশের কেবিনে
ম্রিয়মাণ যুবাটির আরো কিছু মরা হলো কি না।

‘এখনও ততটা নয়’ ঠোঁট টিপে এ ওকে জানায়।
‘তবে কি ঘুমোচ্ছে? না কি জ্ঞানহীন? ডাক্তার দরকার?’

‘থাক বাপু’- ফিনফিনে ফিঙে দুটি ফিরে চলে যায়
‘আমরা কী করতে পারি! যার যার ঈশ্বর সহায়!’

নার্স ৩

দু-জন আছেন ওই অ্যাপ্রনসুন্দরী
অ্যাপনের নীচে রেখে হাসি
মুখে মরুভূমি নিয়ে নিয়মিত ভোরে
বিছানা সাজান বারো মাসই
যদি বলি ‘চাদরের আমিও কোণ ধরি’
আমাকে দেবেন ঠিক ফাঁসি!

নার্স ৪

হাসিও ছিল বারণ
মুখে তাকাই না, কারণ
তাকালে মুখে রোগীর বুকে
রক্ত-সমুৎসারণ।

ধরেছি বটে নাড়ি,
কপাল ছুঁতে কি পারি?
এক ঝাপট-এ মাথায় ওঠে
ছেলে থেকে বুড়ো ধাড়ি।