তখন সন্ধে হয়ে এসেছে কিন্তু আলো জ্বলেনি কোথাও
বটমূলের আবছায়ায় বসে আছেন শাস্তা
আমরা তাঁকে ঘিরে আছি মুখে ত্রাস শিরদাঁড়া ভাঙা
স্খলিত স্বরে আমরা বলছি কী দেখেছি কী শুনেছি
কীভাবে তিনি ভেঙে যাচ্ছেন ঊর্ধ্বতন পাহাড়শিলায়
এক-একটা পাথরে কীভাবে উড়ে যাচ্ছে এক-একটা শতক
সে-উৎক্ষেপ ঘিরে ঘিরে নেচে উঠছে ধর্ষকাম গোলন্দাজদের দল
আর কীভাবে তাকিয়ে দেখছি আমরা যেন কিছু আর করবার নেই
আমরা তাঁকে বলছি।

তিনি চোখ মেললেন আকাশে, সে-চোখে নির্বেদ
বাসায়-ফেরা পাখিদেরও আর শব্দ নেই কোথাও
তিনি বললেন : শোনো, আরেক জন্মের কথা বলি আমি।
একদিন, মধ্যরাত, তখন সবাই ঘুমের মধ্যে অচেতন
সোর উঠল বাতাসে
অন্ধকার জ্বলে উঠল হাজার হাজার মশালের শিখায়
শিখা হাতে ছুটে আসছে রক্তপায়ী তরুণেরা
তাদের কপালে উলকি, বুকে শুদ্ধশোণিতের উন্মাদনা

বিদ্যাপ্রাঙ্গণের দিকে ছুটে আসছে তারা, দশ মে উনিশশো তেত্রিশ,
ধুলোয় নামিয়ে আনছে ৎসাইগ মান আইনস্টাইন রেমার্ক
ধুলোয় নামিয়ে আনছে জোলা জিদ প্রুস্ত ওয়েলস সিনক্লেয়ার বা হেলেন কেলার
খাণ্ডবদাহনে পুড়ছে সব, পুড়ে যাচ্ছে সমস্ত মনন
এক-একটা অক্ষর জুড়ে পুড়ে যাচ্ছে এক-এক শতক।
তখন
গোলন্দাজরাই ছিল উলকিপরা এই মশালধারী, আমিই ছিলাম বই,
আর তোমরা ছিলে সেই যারা
ঘুমের মধ্যে অচেতন।

রাত্রি তখন স্রোতস্বিনী। কোলের কাছে তীরবেঁধা হাঁস।
শাদা বুক থেকে শেষ রক্তবিন্দু হাতের পাতায় মেখে নিয়ে তিনি বললেন :
তারও পরে
জন্ম নিই আমি, জন্ম নিতে থাকি,
এ-জন্মের কথা আমি অন্য কোনো জন্মে বলে যাব।