এই বাড়িতে অনেকদিন হল একা। দুপুরে বই নিয়ে
বসে আছি- বই থেকে মাথা না তুলেও মনে হল
একটা ইঁদুর যেন ঘরের কোনাকুনি দৌড়ে গেল।
আসলে কিছু না।
একদিন হঠাৎ মনে হল একটা স্বচ্ছ কাচের গুলি
চেয়ারের তলা থেকে বেরিয়ে সামনে গড়িয়ে গিয়েই
কোথায় লুকিয়ে পড়ল। আসলে এটাও কিছু না।
পাল্লাবন্ধ কাচের জানলার ওপাশে একটা বড় ছায়া
খসে পড়ল- ছায়া নয়, নিশ্চয় সুপুরি গাছের বালতো।
উঠে জানলা খুলে দেখি, বালতোও না, বিরাট ডানার
একটা চিল পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়েই নখে মাছ নিয়ে
উঠে যাচ্ছে আকাশে।
দরজা খোলা থাকলে মাঝে মাঝে বেড়াল ঢোকে,
পাশের ফ্ল্যাটের এলসা কুকুরটা ঢোকে। না, না,
বেড়াল কুকুর কেউ না, আজকের কাগজটা হাওয়ায়
মাটিতে পড়ে গড়াচ্ছে আর ফটফট করে কান নাড়াচ্ছে।
বিকেলে লতার ছায়া দোলে দেয়ালে- হঠাৎ মনে হয়
উড়ন্ত প্রজাপতিকে বুঝি টিকটিকি তাড়া করেছে।
সেদিন সন্ধ্যেবেলা চমকে উঠলাম- একটা বাঘ এসে
ঢুকছে ঘরে। না, না, বাঘ নয়, তুমি। লাফিয়ে উঠতে গিয়ে
তাকিয়ে দেখি- নাঃ তুমি না, পৃথিবীর ঠাণ্ডা
সন্ধ্যাবেলাকার ছায়া ঢুকছে ঘরে।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন