(একজন প্রেমিকের আত্মকথন | প্রতারণা ও পুনর্জন্মের উপাখ্যান)
ওগো প্রিয়জন, হৃদয়ের বুকে গাঁথিয়েছিলাম নাম,
তুমি লিখেছিলে ছলনা, আমি পড়েছিলাম প্রেমের আরাম।
চোখে ছিল তোমার আদরের কলঙ্ক, বুঝিনি—
তুমি এঁকেছিলে আরেক জনের বাহুতে চিরদিনি।
রাত্রির নীরবতায় আমি ছিলাম প্রহরী,
তুমি ছিলে অন্য কারো ঠোঁটে কল্পিত আত্মীয়তা ধরি।
শরীরের উত্তাপে তুমি গড়েছিলে রমণ,
ভুলে গেলে সেই মন, যে মন দিয়েছিল অনন্ত জীবনবরণ।
তুমি বলেছিলে—”আমিই চিরদিন”,
কিন্তু আমার দিন ছিল, তোমার ছিল রাতের চিত্রবিন।
মোহের খাঁচায় তুমি হলা ভাসমান,
আমি ছিলাম ডুবন্ত—তবু সত্য, নির্ভুল, অনুরাগী প্রাণ।
তুমি সাজালে পরকীয়া, করিলে কামনার মেলা,
আমি সাজালাম ভালোবাসা, আর হৃদয়ের খেলা।
তুমি খেললে ক্ষণিক সুখ, আমি খেলাম অশ্রুজল,
তুমি মেললে পরের হাত, আমি খুললাম হৃদয়দ্বার অবল।
তুমি ভাবলে—আমি জানব না? আমি টুটে যাব?
না প্রিয়, আমি প্রেমিক—জ্বলেও, পুড়েও, রুখে দাঁড়ায় সব।
তুমি ছিলে ছায়া, আমি খুঁজেছি আকাশ,
তুমি গিয়েছো নীচে—আমি পেরিয়েছি সীমার প্রকাশ।
আজ তুমি একা, আমি নিঃশব্দে বলি—
“ভালোবেসেছিলাম, তবে সরে গেছি, নিজে গড়ি”।
তোমার মোহে যে এসেছিল, সেও চায় এখন নতুন খেলা,
তুমি হলে প্রত্যাখ্যাত, আর আমার জীবন নতুন মেলা।
তুমি ভুলে গেলে আমার চোখে যে পূর্ণিমা ছিল,
আজ সে পূর্ণিমা আলো হয়ে আমাকে নতুন রূপ দিল।
আমি এখন দাঁড়াই সোজা, প্রেমের গৌরবে ভরা,
আর তুমি?—লুকাও আয়নার পিছনে, ক্ষতবিক্ষত অন্তরা।
তুমি যদি কোনোদিন কাঁদো,
জানো—সেই কান্না আমার জন্য নয়,
তোমার মোহের পরিণয়,
আর আমার নীরব জয়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে
ভেসে উঠবে সেই অশ্রুর আবরণে।
“প্রেম হারালে মানুষ ভাঙে, প্রতারণা করলে মানুষ মরে—
কিন্তু যে সত্য ভালোবাসে, সে হারেও জেতে, অন্তরশ্মশানে বিজয় গড়ে।”