বনের ভিতরে আজ রাত নেমেছে—
চাঁদের আলোয় পাতার ফাঁকে ফাঁকে
অচেনা ডাক ভেসে আসে;
কোনো হরিণী হয়তো দাঁড়িয়ে আছে
জলাশয়ের ধারে,
তার চোখে নিঃসঙ্গতার আভা।
দখিনা বাতাসে ভেসে আসে ঘ্রাণ—
শিকারীর পায়ের শব্দ,
বন্দুকের ধাতব গন্ধ;
আমি শুয়ে থাকি তাবুর ভেতরে,
ঘুম আসে না আর,
শুধু শুনি বনের নিঃশব্দ কোলাহল।
পুরুষহরিণেরা দূরে দাঁড়িয়ে আছে—
তাদের বুকের ভেতর জেগেছে প্রেমের তৃষ্ণা;
তারা জানে না কোথায় বাঘ, কোথায় মৃত্যু,
শুধু শুনছে ডাক—
জ্যোৎস্নার আড়ালে এক অচেনা সঙ্গীর।
এই রাত—
এক বিস্ময়ের রাত,
যেখানে প্রেম আর মৃত্যুর মধ্যে
কোনো সীমানা নেই;
যেখানে মানুষের থালায় মাংসের ঘ্রাণ
আর বনের ঘাসে রক্তের দাগ
একই গল্প বলে।
আমি শুনি বন্দুকের শব্দ,
তারপর আবার হরিণীর ডাক;
আমার হৃদয় কেঁপে ওঠে—
যেন আমি নিজেই এক পুরুষহরিণ,
পৃথিবীর সব হিংসা ভুলে গিয়ে
তোমার দিকে ছুটে আসতে চাই।
কিন্তু এই রাতের শেষে
শুধু মৃত প্রেমিকেরা পড়ে থাকবে মাঠে;
আর আমরা মানুষ—
তাদের মতোই,
প্রেমের সাহস, সাধ, স্বপ্ন নিয়ে
শেষে ধূলায় মিশে যাবো।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন