বছর চলে যায়—
ক্যালেন্ডারের পাতা খসে পড়ে যায় মেঝেতে,
আমরা কেউ আর তা কুড়িয়ে তুলি না;
কারণ জানি, পাতা নয়—
সময় ঝরে পড়ছে আজ আমাদেরই ভেতর।
সকাল আসে জানালার কাচে ভরচলেয়ে,
রোদ দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ সেখানে—
তারপর ক্লান্ত হয়ে সরে যায় সে;
আমরা চা খাই, কথা বলি,
আর আমাদের যত না-বলা কথা
টেবিলের কোণে জমে থাকে ধুলোর মতো—
স্তব্ধ, ধূসর আর একা।
কখনো মনে হয়—
ভালোবাসা বুঝি খুব সাধারণ কিছু,
এক নিমেষের একটু মনোযোগ,
একটু সময়, কিংবা নিবিড় করে
একটু হাত ধরে থাকা;
কিন্তু ঠিক তখনই তা হয়ে ওঠে
পৃথিবীর সবচেয়ে দুরূহ বিষয়—
ঠিক যেমন নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে
নিজের নাম মনে করার এক ব্যর্থ চেষ্টা।
আমি দেখেছি মানুষ সবকিছু হারিয়েও
বেঁচে থাকে ঘাসের মতো,
আবার সবকিছু পেয়েও কেউ কেউ
ভেঙে পড়ে বালির পাহাড়ের মতো অকস্মাৎ।
কারণ আসল প্রশ্নটা পাওয়া-না পাওয়ার নয়,
কার কাছে মন হারল— এইটুকুই সার।
কখনো কখনো হৃদয় খুব হালকা বৃষ্টি চায়—
কোনো প্রলয় নয়, কোনো ঝড় নয়;
একটু ভেজা মাটির ঘ্রাণ,
একটু নীরবতা,
আর কেউ একজন—
যে কিছু না বললেও
ছায়ার মতো থেকে যায় নিভৃতে।
তবু জানো,
সব শেষ হয়ে যায় না কোনোদিন;
কিছু অনুভূতি চুপচাপ বেঁচে থাকে—
অভিমান ছাড়াই, অভিযোগ ছাড়াই—
মহাকালের কোনো এক ম্লান ধ্রুবতারার মতো।
আর সেইখানেই হৃদয় আবার জিতে যায়,
মস্তিষ্ক হেরে গিয়ে বসে থাকে একপাশে;
আমরা ভালোবাসার নাম নিই না আর,
তবু তার অপেক্ষার মায়া ছাড়ি না।
আর এইভাবেই—
নিঃশব্দে, আরেকটি বছর পেরিয়ে যায় নিঃশ্বাসের মতো—
আর আমরা রয়ে যাই
নিজেদের সবচেয়ে সত্য অমোঘ জায়গাটায়।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন