ডুয়ার্সের বাতাসে তোমার নাম লিখেছি—
শাল, সেগুন, সিমুলের গায়ে গায়ে
আজও কেঁপে ওঠে সেই অক্ষর;
তুমি কি টের পাও?
জয়ন্তীর খরস্রোতা জলে
আমি বহুবার ডুব দিয়েছি—
তোমাকে ছোঁয়ার জন্য নয়,
তোমার অস্বীকারের গভীরতা মাপতে।
কারণ তুমি নদী নও শুধু,
তুমি এক অন্তহীন গন্তব্য,
যেখানে পৌঁছাতে গেলে
নিজেকেই হারিয়ে ফেলতে হয়।
রাজাভাতখাওয়ার জঙ্গলে
বনলতার আঁচল ছুঁয়ে
যে নৈঃশব্দ্য নেমে আসে,
সেখানে আমি তোমার নাম ধরে ডাকিনি,
শুধু শুনেছি
তুমি কীভাবে বাতাস হয়ে বেঁচে আছো
অস্পৃশ্য, অথচ সর্বত্র।
সিংভূমের অরণ্য পেরিয়ে
আমি দেখেছি তোমার চোখ
জলভরা, তবুও অনমনীয়।
সেই জলে ছিল
অর্ধেক ভালোবাসা, অর্ধেক বিদায়,
আর কিছু না-পাওয়ার
অবাধ বিদ্রোহ।
তুমি কি জানো?
আমি প্রতিদিন বিদ্রোহ করি—
তোমাকে না-পাওয়ার বিরুদ্ধে,
এই সমাজের বাঁধাধরা ভালোবাসার বিরুদ্ধে,
যেখানে ভালোবাসা মানে দখল
আর আমি চাই মুক্তি।
তাই আজও খুঁজি তোমায়—
দুচোখের গভীর চাহুনিতে নয়,
বরং এক শূন্যতার ভিতর,
যেখানে তুমি নেই বলেই
সবকিছু এত স্পষ্ট।
ডুয়ার্সের মুক্ত বাতাসে
তুমি হয়ে উঠো বিশুদ্ধ শ্বাস প্রশ্বাস
আমি শুধু সেই বাতাসের
এক অনামা পথিক,
যে ভালোবেসে গেছে,
বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েও
অটল থেকেছে।
কারণ আমি জানি—
কিছু প্রেম শুধু জঙ্গলের মতো—
স্পর্শহীন,অমলিন,
চিরকাল বেঁচে থাকে।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন