প্রসূন গোস্বামী

কবিতা - উলঙ্গ উৎসবের রাত

প্রসূন গোস্বামী
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ অন্যান্য কবিতা

বাতাসে এখন কোনো ঈশ্বরের ঘ্রাণ নেই,
আছে শুধু চিতার গন্ধ আর জমাট বাঁধা রক্তের বাষ্প।
এই জনপদে এক আদিম মড়ক নেমেছে নিঃশব্দে,
মস্তিষ্কের কোষে কোষে আজ হিংস্র কীটদের মহোৎসব।
একটি অবুজ, অন্ধ ব্যাধি গ্রাস করেছে সমস্ত মানচিত্র,
যার নাম—উন্মত্ত চেতনার এক বিষাক্ত বিকার।

পামরদের করোটিতে আজ আর কোনো যুক্তি নেই,
সেখানে জ্বলছে শুধু আদিম হিংসার লেলিহান শিখা।
তারা অন্ধকারের বুক চিরে স্লোগান তোলে বিনাশের,
তাদের নখ আর দাঁতে লেগে আছে সহজিয়া মানুষের মাংস।
এই রোগ এক প্রাচীন জলাতঙ্কের মতো ছড়িয়ে পড়েছে শিরায়,
যেখানে ভিন্নমতের প্রতিটি স্পন্দনই এক একটি অপরাধ।

শোনো, তবে কি সমাসন্ন সব ভিন্ন সুরের শেষ যাত্রা?
তবে কি ভেঙে পড়বে মুক্তকণ্ঠের শেষ অবশিষ্টাংশ?
দানবেরা আজ উল্লাসে ফেটে পড়ছে রাজপথে,
তাদের হাতে ধারালো খড়্গ, চোখে জিঘাংসার আগুন।
যাঁরা অন্য চোখে আকাশ দেখে, অন্য সুরে গান গায়,
তাদের শ্মশানযাত্রার ঘণ্টাধ্বনি বাজছে ওই দূর দিগন্তে।

সবচেয়ে চেনা মাটির বুক থেকে আজ মুছে যাচ্ছে একটি নাম,
হিন্দুদের উঠোনে আজ শুধু ভাঙা তুলসী মঞ্চ আর শূন্যতা।
তাদের ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হচ্ছে উচ্ছেদের পরোয়ানা,
নিশ্চিত বিনাশের কালো ছায়া গ্রাস করছে প্রাচীন ভিটেমাটি।
শঙ্খধ্বনি আজ ঢাকা পড়েছে উন্মত্ত পঙ্গপালের চিৎকারে,
রক্তাক্ত প্রতিমারা পড়ে আছে অবহেলায়, পথের ধুলোয়।

এই বাংলা আজ কোনো সুন্দরের উপাসক নয়,
এ এক ভয়াল বধ্যভূমি, এক পৈশাচিক উল্লাসের মঞ্চ।
পামরদের এই ব্যাধি গ্রাস করছে সহস্র বছরের আলো,
যেখানে ভিন্নমত মানেই বুক পেতে দেওয়া বুলেটের সামনে।
বাতাস ভারী হয়ে উঠছে আসন্ন এক মহাশ্মশানের গন্ধে,
যেখানে মানুষ মরছে মানুষেরই উলঙ্গ উৎসবের রাতে।

পরে পড়বো
১২

মন্তব্য করুন