রক্তাক্ত ফুটপাতে যে ভাষা জন্ম নেয়,
তাকে তোমরা বলো নোংরা, অশালীন।
অথচ তোমাদের ড্রয়িংরুমের মসৃণ সোফায়
বসে আছে যে পরিচ্ছন্ন, মার্জিত শয়তান—
তার চেয়ে নগ্ন আর কোনো সত্য হয় না।
তোমরা যারা প্রগতির মুখোশ পরে
অন্ধকারের সাথে আপস করেছিলে সজ্ঞানে,
ইতিহাস তোমাদের ক্ষমা করবে না।
ইতিহাস কোনো নরম তুলতুলে বিড়াল নয়,
সে এক হিংস্র হায়েনা, যে হাড় চিবিয়ে খায়।
তোমরা ভেবেছিলে সিক্যুলারিজমের (sickularism) বোরখা পরিয়ে
লুকিয়ে রাখবে আগ্রাসনের ধারালো নখ?
ভেবেছিলে প্রগতিশীলতার চটকদার সস্তা স্লোগানে
ঢেকে দেওয়া যাবে একটা গোটা সভ্যতার পচন?
উগ্রতার যে বিষবৃক্ষে তোমরা রোজ জল দিয়েছ,
যে অনুপ্রবেশকে তোমরা প্রগতি বলে হাততালি দিয়েছ,
তা আজ তোমাদেরই দরজায় এসে করাঘাত করছে।
তোমরা তো সেই বাম ইতর,
যারা বিপ্লবের নামে কেবল সুবিধাবাদের চাষ করেছ।
লাল পতাকার আড়ালে লুকিয়ে রেখেছ
এক একটা চরমপন্থি অন্ধকারের চোরাবাজার।
ভারতবর্ষের আকাশ আজ যে কালো মেঘে ঢাকা,
গোটা বিশ্ব আজ যে বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে,
তার সলতে পাকানোর কারিগর তোমরাই।
জ্ঞানপাপী তোমরা, সব জেনেও যারা অন্ধ সেজেছিলে,
বুদ্ধিজীবী সাজার লোভে যারা বিকিয়ে দিয়েছ মগজ।
তোমাদের এই ভণ্ড ‘সিকুলার’ (sickular) আস্তিনের সাপেরাই
দংশন করেছে এই মাটির আদিম শরীরকে।
যখন ভাঙছিল মন্দির, যখন পুড়ছিল জনপদ,
তোমরা তখন সেমিনারে বসে কবিতার ছন্দ মেলাচ্ছিলে।
বিস্তারের নামে যে ফ্যাসিবাদের চাষ হতে দিলে তোমরা,
তা কোনো ধর্মের নয়, তা এক চরম ধ্বংসের ইশতেহার।
শ্মশানের চিলেরা আজ তোমাদের নামে গান গায়,
কবরের পোকারা আজ তোমাদের চেনে সহযোদ্ধা বলে।
তোমাদের তত্ত্বের কচকচানি, তোমাদের মেকি দয়া—
সবটাই আসলে ছিল এক একটা সুপরিকল্পিত অপরাধ।
পৃথিবী যখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে গিয়ে দাঁড়াবে,
আঙুলটা উঠবে ঠিক তোমাদেরই মেরুদণ্ডহীন অবয়বের দিকে।
