আমি একটা সুর চাই
যেই সুর হবে আবেগের দংশন হতে মুক্ত
হবে বিবেকের সংযম হতে ছিন্ন।
যেই সুর মায়ার ঘোরে কখনো আচ্ছন্ন হবে না
তন্দ্রার তরে বিভোর পড়ে রবে না
প্রণয়িনীর রক্তচুমুক অশ্রুর ঝাপটায়
যেই সুর কখনো ভিজে যাবে না।
যেই সুর ধুলোয় গড়ানো অবুঝের
কান্না মিশ্রিত হাসির পরাগ মেখে কখনো
প্রস্ফুটিতও হবে না।
যেই সুর হাহাকার রবে মুখরিত মঞ্চের
ব্যানার ছুঁয়ে যাওয়া বাতাসের গন্ধ কখনো শুকেনি
যেই সুর কোনদিনই পাথরের কান্নার সুর শোনেনি
যেই সুর তরবারির বিষাক্ত শব্দে কলঙ্কিত হয়নি–
আমি সেই সুরি খুঁজে বেড়াচ্ছি।
সৃষ্টির প্রথম দিনের প্রথম প্রহর থেকে খুঁজে বেড়াচ্ছি।
সেই যে আদি প্রভাতে জেগেছিলাম আর ঘুমাইনি
খুঁজেই চলেছি খুঁজেই চলেছি খুঁজেই চলেছি খুঁজে
দিবসের দ্বারে রজনীর ঘরে জাগ্রত ভোরে তন্দ্রায় চোখ বুজে।
খুঁজে বেড়াচ্ছি সন্ধ্যার দিগন্তের আবছা রেখায়
হারিয়ে যাওয়া ক্লান্ত ডানা আর তৃপ্ত চোখের
সমন্বিত সফলতার কাছে
আর বুকের জমাট বাধা রক্তের দাগ লাগা দীর্ঘশ্বাসে।
গাড়োয়ানের কাঠের চাকার শ্রূতিহীন শব্দে
আর শহরের অবসন্ন বিকেলের ব্যস্ততায়
আমি সেই সুর খুঁজেছি।
পিপড়ার গর্তের মুখে কান পেতে
মানুষের অবোধ্য শব্দের বুনন পাতায়ও খুঁজতে বাদ দেইনি।
কিন্তু… কিন্তু আজও খুঁজে পাইনি
তাই বলে আমি হাল ছাড়িনি।
পঙ্গপালের ধ্বংসের মিছিলে
প্রাপ্তি আর প্রত্যাশার বিয়োগফলে
জলন্ত শিকের দংশনে ঝাজরা হয়ে যাওয়া বাশের বাঁশিতেও
আমি আজও খুঁজে চলেছি সেই সুর–
জীবনের সুর।
