মহাজাগতিক শিকারি
কবি : সোহাইল আল হাবিব
শূন্যের বুকে জ্যামিতি এঁকেছে নক্ষত্রদের মেলা,
সেখানে সমীকরণই ঈশ্বর, আর সময় দিচ্ছে খেলা।
দশমিকের এক বিন্দু ভুলে ধ্বংস হতো এই ঘর,
আমরা ঝুলে আছি সুতোর ওপরে ভীষণ কারিগর।
পরমাণুর ওই কঠোর পাহারায় প্রেম নেই, আছে বল,
সীমা ছিঁড়ে গেলেই জগত হারাবে অস্তিত্বের সম্বল।
মহাকর্ষের শিকলটা আজ একটু হলেই ঢিলে,
আকাশের ভার ভেঙে পড়ত এই পৃথিবীর নীলে।
যুক্তি যেখানে হাঁপিয়ে মরছে কোয়ান্টামের দ্বারে,
সেখানে নিয়তি পাশা খেলে চলে অজানার অন্ধকারে।
আমরা আঁকছি মানচিত্র,কাগজের এক পাহাড়,
ভূখণ্ড ভেবে ভ্রম করি মিছে, নেই তো চলার হাড়।
তবুও মানুষ থামেনি কখনো, সে যে এক অবাধ্য প্রাণ,
অন্ধকারেও হাতড়ে বেড়ায় সত্যের জয়গান।
বিন্দু হয়েও অসীমকে আজ খাঁচায় ভরার আশা,
বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদেরই শ্রেষ্ঠ ভাষা।
প্রকৃতির এই তসবিহ দানা, গ্রহ তারার মালা,
আবিষ্কার নয়, স্মরণের কাজ পুরানো স্মৃতির খেলা।
সৃষ্টির ভোরে কেউ কি তবে কষেছিল এই অঙ্ক?
যার নির্ভুল ছন্দে স্তব্ধ মহাকালের শঙ্খ!
ভাগ্যবান মোরা লটারির জয়ে, নাকি কারো গভীর দান?
উত্তর নেই, শুধু বয়ে চলে নিস্তব্ধ মহাকাশ যান।
বিস্ময়-জালে আটকা পড়া এই মানুষই চিরকাল,
অজানার বুকে নিশান উড়িয়ে বিশ্বের মহাজাল!