বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সম্ভাবনাময় কবি এম এ ওয়াহিদ এর কয়েকটি গুচ্ছ কবিতা।
১**
একদিন এই নশ্বর পৃথিবীর যাবতীয় কোলাহল আর ব্যর্থতার সবটুকু দায়ভার নিজের নামে ‘উইল’ করে এক মহাজাগতিক শূন্যতায় বিলীন হবো।
ওপার থেকে আমি অনন্ত এক নির্বিকারত্ব নিয়ে ঈশ্বর আর তোমার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে হাসবো।
আর—
আর বীভৎস রকমের চিৎকার করে বলবো—
তুমি যার বাহুলগ্নেই নিজের এই ক্ষণস্থায়ী যৌবনকে সমর্পণ করো না কেনো—
মনে রেখো—
এই ধ্বংসোন্মুখ ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য সিংহাসনটি এই ব্রাত্য এবং সর্বহারা প্রেমিকেরই ছিল।
২**
তোমাকে ভালোবাসার পর জেনেছি —
শুধু জ্বর নয়
একশ তিন ডিগ্রি প্রেমও হয়
৩**
বিচ্ছেদ’কে প্রেমের রশি দিয়ে বেঁধে রেখে—
যে নারীর কাছে গেলো,
সে যেনো মিলনের শিকল নিয়ে ফিরে এসে—
প্রেমকে পুনরুদ্ধার করে।
—এম এ ওয়াহিদ
৪**
এই সামান্য আয়ু নিয়ে যে
তোমাকে ভালোবাসার মতো দুঃসাহস দেখালো—
তাঁকে তুমি ভুলে যেও না।
কারণ…
প্রেমের পথ এতোটাই সুদীর্ঘ, যে—
মিলনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পৌঁছাতে
গোটা
একটা জীবন কেটে যায়।
এম এ ওয়াহিদ
৫**
অশ্রু কেবল ঝরছে চোখে,আগুন জলে চিতায়।
পুত্র এতোই নিঠুর কেনো,ভাবছে শুয়ে পিতায়।
৬**
সূর্যের কিরণে মরিচীকা মনে হয় স্বর্নের মতন,
যাকে সাফল্য ভাবি, সে আসলে নির্ঘাত পতন
৭**
পতিতাদের খুব নাম ডাক আজ সংসদে গায় গান—
উপাসনালয়ে বসি মোল্লার দল, নির্ভয়ে করে মদ পান।
৮**
তারা প্রেম চেয়েছিলো
যখন আমরা দায়িত্বের দায়ে কুঁজো।
তারা ফুল চেয়েছিলো —
যখন আমরা অরবের মরুতে বন্দি।
তারা ভয় দেখিয়েছিলো—
যখন আমরা সদ্য যুদ্ধ ফেরা সৈনিক।
তারা দায়িত্ব নিতে বলেছিলো—
তখনো আমাদের দোরগোড়ায় বার্ধক্য।
তারা চুমু চেয়েছিলো—
তখন আমাদের ওষ্টে রক্তের দাগ।
তারা মিলন চেয়েছিলো —
তখন আমরা বিচ্ছেদের ক্ষুধায় কাতর।
তারা হৃদয় চেয়েছিল—
তখন আমরা ক্রুশবিদ্ধ যিশু!
তারা বলেছিলো ফুল ছাড়া প্রেম? এ হয়না।
তারা জানে না শরীরও প্রয়োজন!
তারা বিচ্ছেদ চেয়েছিল!
তারা বিচ্ছেদ ‘পেয়েও’ ছিল।
তখন আমরা সভ্যতা থেকে বিলুপ্ত প্রায়—
এম এ ওয়াহিদ