কবিতা — নীলকণ্ঠী বেঁচে থাকা

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ অন্যান্য কবিতা

চারিদিকে আজ একতার গান, একরৈখিক সুর—
যে সুরে মেশে না ভিন্ন কোনো শ্লোক, আলাদা নূপুর।
ওরা হেঁটে আসে মিছিলে মিছিলে, সমস্বরের দল,
চোখে জ্বলে জিঘাংসার আগুন, বুকেতে কোলাহল।
একটাই ডাক, একটাই জিগির, এক ছাঁচে ঢালা মন:
“করো তারে নির্মূল, ভিন্ন যে জন, শত্রু সে জন।”
আমি একা দাঁড়াই আমার ঘরের কোণে,
যেখানে প্রদীপ কাঁপে শঙ্কিত এ প্রপ্রৌঢ় ক্ষণে।

তারা এক সুরে বাঁধে ঘৃণা, এক সুরে শানায় ছুরি,
একমত হতে হতে কেড়ে নেয় মানুষের ঘরবাড়ি।
আমি এই বাংলায় থেকে যাই এক অন্য প্রান্তিক স্বর,
আমার কপালে তিলক দেখেই যারা ভাবে “পর, শুধু পর”।

“একটা একটা হিন্দু ধর…”—
বাতাসে ভাসিয়া আসে শানিত এ স্বর।
যে মাটি আমারও ছিল, যে মাটির জল,
সেখানে আজকে শুধু হিংসার অনল।

নীরেন্দ্রনাথ বলেছিলেন সায় না দিতে, দ্বিমত হতে একা,
কিন্তু এখানে দ্বিমত মানেই তো রক্তে কপাল লেখা।
ওরা একমত হয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে মন্দির আর ঘর,
ওরা একমত হয়ে উপড়ে ফেলছে শিউলি গাছের জড়।
সবাই যেখানে একই অন্ধ আবেগে আত্মহারা,
সেখানে বেঁচে থাকা মানে রোজ মরে যাওয়া, হে সর্বহারা!

তবু আমি বেঁচে আছি এই চেনা স্বদেশে একা,
বুকের গভীরে পুষে রেখে রোজ চিতার আগুন-রেখা।
ওদের ওই মিলিত উন্মাদনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে,
আমার অস্তিত্বটুকুই এক নীরব প্রতিবাদ—
প্রতিটি ভোরের সূর্যকে ছুঁয়ে বেঁচে থাকার এই সাধ।

৫ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা