অনাবিল সারল্য সুনীল আকাশের গায়ে,
কে জানে অশনি থাকে লুকিয়ে কোথায়!
কত সুন্দর, কত মোহময় জীবন হেথায়—
শিশু-পায়ের ললিত লাবণ্য আঁকা ধুলায়।

যৌবনের রঙিন স্বপ্ন দিগন্তে যায় ভেসে,
সুখের মায়া দূর হতে হাত নাড়ে হেসে।
প্রাপ্তির উল্লাস জাগে মনে পাবার আগেই,
ডুবে যেতে চায় দুরন্ত হৃদয়, পায় না থই!

ক্ষুধা-প্রাচুর্যের কাছে অধীনতার মূল,
আবেগের চোরাস্রোতে জীবন ব্যাকুল;
পতত্রীর মতো মুক্ত জীবন, উন্মুক্ত জালে—
কীটও ভাবে নাই সে অধীন কস্মিনকালে!

অজান্তে সময় চলে যায় কালের পাখায়,
মোহের অন্তরালে মন বুড়ো হয়ে যায়।
যাহা ছিল তরুণ-তাজা, কালে শুকায়—
ঊষার কিরণ দিনের শেষে ঢলে যায় ।

মনের নক্ষত্র ঝরে পড়ে নিরাশার বুকে,
স্বপ্নগুলো হারায় কালের নীরব মুখে ;
তবু মানুষ বাঁচে কেবল কিছুর প্রত্যাশায়,
ভগ্ন ডানায় উড়ে যায়, হলেও ক্ষীণ আশায়।

শেষ প্রহরে বুঝি কিছু জীবনের মানে,
পূর্ণতা মেলে না কভু মর্ত্যের বিধানে।
যা পাই না তারই চাওয়া হৃদয়ের গাঁথা,
অপূর্ণতার মাঝেই হারায় পূর্ণতার কথা!

ব্যস্ত জীবনে ঘনঘটা আর গন্তব্যে শূন্যতা,
একাকিত্বেও থাকে মোলায়েম ব্যাকুলতা;
অস্তিত্ব শুধু আশা, অনন্ত অপেক্ষা—
আর নত হয়ে মেনে নেওয়া অপূর্ণতা।