ক্লান্ত দিনের শেষে সূর্য গিয়াছে ঢুবে
দিনের আলোরা পর্দা মেলিয়াছে পুবে
ধীরে ধীরে আঁধার ছরায় ঘন ঘন
ঝিরঝির বাতাস বয় শন শন
আসে আলোকানন্দা,শুভ সন্ধ্যা
আধার তখন তন্দ্রায় ঘোর ঘোর
সাঁঝের বাতিরা খুলে দেয় দোর
ক্লান্ত পথিকের দরজার কাছে
এলো চুল এলিয়ে সন্ধ্যারা আসে
রাতের জোনাকিরা জমায় আসর
দিনের শেষে আধার সাজায় বাসর
জ্বলে উঠে শহর নগর গ্রাম
পুবের ধরনী ছূয়ে আকাশ প্রমান
চোখের পরে ঘুম ঘুম তন্দ্রা,শুভ সন্ধ্যা
পাখ পাখিরা সব ঘরে যায় ফিরে
আধার ঘনিয়ে আসে পৃথিবী ঘিরে
ক্লান্ত পথিকেরা ফিরে পায় প্রান
নদীর দুধার জুড়ে গান আর গান
শুধু আলোক মন্দা,শুভ সন্ধ্যা
কাজল কালো খামে লিখে সন্ধ্যার চিঠি
সাঝের তারারা জ্বলে মিটিমিটি
এলেয়ি খোঁপা চুল সন্ধ্যা নামে ধীরে
সাঝের মায়ায় ঘীরে; মায়াবতী
তুমি আলোকানন্দা, শুভ সন্ধ্যা
আলোক মিলিয়াছে ছায়ায় ছায়ায়
সাঝ হেসেছে চাদের মায়ায়
চাঁদ ঢেলেছে তার সবটুকু আলো
ধীরে ধীরে সরে যায় সাঁঝের কালো
ঝিনঝিন ঘনঘোর আন্ধারে
সেজেছে সন্ধ্যা , শুভ সন্ধ্যা
চারদিকে শুনশান নিরবতা
শুধু ভেসে আসে নদীর কথা
অন্ধকার ছরায় মায়ার আঁচল
নীড়ে ফিরে সব পাখিদের দল
ঘনীয়ে আসে মিত্যুর মহানন্দা
শুভ সন্ধ্যা , শুভ সন্ধ্যা
ক্লান্ত প্রাণে পুবের হাওয়ায়
আবার সন্ধ্যা আসুক নেমে
পাখ পাখিরা ফিরুক নীড়ে
একটু থেমে থেমে
মন্দিরেতে ঘন্টা বাজুক
মসজিদেতে আযান
কাজের শেষে ক্লান্ত প্রানে
ঘরে ফিরুক বাজান
মায়ের মুখে ফুটুক হাসির
সেইটুকু ছন্দা শুভ সন্ধা
সন্ধ্যা সেতো কাজল চোখের মেয়ে
তার মুখখানা দেখি চেয়ে চেয়ে
উদাস বিকেলের শেষে সহস্র বছরের
মায়ায় যেমন রয়েছে জড়িয়ে
নিস্তব্ধ পৃথিবীর অমানিশায়
কার দিকে চায়,কাজল কালো সন্ধ্যা
শুধুই সূদূরে থাকা ঘনঘোর অন্ধকার
মিত্যুর মহানন্দা,শুভ সন্ধ্যা
নদীর কলগান শুনেছ কি তুমি
সেখানেও তোমায় এসে গোপনে চুমি
বন্ধুদের জমানো চায়ের আসরে
কিংবা কপোত কপোতীর আড্ডার বাসরে
এলিয়ে তোমার চুলে ছূয়ে দেই আমি
তুমি সূর্য যেমন দামি
তুমি সুগন্ধা,শুভ সন্ধ্যা
এমন সন্ধ্যার প্রাতে তোমার হাতে
রেখেছিনু মোর এই হাত
এখনো সেই অলস আকাশ
রক্ত রাঙা পুবে মোর স্বপ্ন গেছে ডুবে
তুমি সূর্য যেমন দামি গোপনে তোমায় চুমি
এখন একা একা রাত শুধুই চাঁদের সাথ
যেমন বেলা শেষের সূর্য ডুবে ডুবে
আধার তার পর্দা নামায় পুবে
থাক্ তুমি আলোকান্দা,শুভ সন্ধ্যা
কবিতা — শুভ সন্ধ্যা
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকৃতির কবিতা
৪০
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'শুভ সন্ধ্যা' কবিতাটিতে কবি দিনের অবসান ও সন্ধ্যার আগমনকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সূর্য ডোবার পর প্রকৃতির রূপবদল, পাখির নীড়ে ফেরা, নিস্তব্ধতা এবং ক্লান্ত মানুষের ঘরে ফেরার দৃশ্য এতে জীবন্ত। কবি সন্ধ্যাকে এক মায়াবতী নারীর সাথে তুলনা করেছেন। আধ্যাত্মিকতা, প্রেম ও প্রকৃতির নীরবতার মিশেলে কবিতাটি এক মায়াময় ও শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শুভ জন্মদিন! 🎈
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
প্রিয় কবি বন্ধু, আপনার আন্তরিক প্রশংসার জন্য হৃদয...
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
কাজী অ্যাডাম
প্রিয় কবি বন্ধু, আপনার আন্তরিক ভালো লাগার জন্য কৃ...
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
কাজী অ্যাডাম