রাত্রি গভীর নীশিথ শয়নে সুপ্ত পারাবার
কে তুমি জাগিছো একা হে জাতির কর্ণধার!

এ অন্ধ নীশিথের রাত্রি
আমরা তার সহযাত্রী
উঠেছে ঝড় ঘূর্ণি ....নাবিকের শির চূর্নি
কে দেবে দিশা ....এ অতল অমানিশা
অজানা বন্দরে নোঙর পাতা শত্রু সেনার!

অন্ধকার রাত্রিতে ছেয়ে আছে সমগ্র জাতিসত্তা
হে স্বাধীনতা
জাগো তবে অন্তর থেকে --

জাগো তবে জাগো মুছিয়া ফেলো এ তন্দ্রা- জড়তা
হে নবীন দিশারী গাও গাও নবজীবনের জয়গাথা

ওরা গ্রাসিতে চায় আলোর শেষ কনা
ভয়ার্ত চিত্তে মুর্ছিত আজ জাতির সূর্য সেনা

আকাশে মেলেনি আশার আলো কালো দিগন্ত পথ
তুমি বিনে কার সাধ্য চালায় এ দুস্তর রথ
নয়ন মেলিয়া দেখ আঁধারের পারাবারে
তরনী ভাসিয়া দিল শত্রু কার অভিসারে

ঝঞ্ঝা আসুক বজ্র হানুক ছিঁড়ে যাক পাল সব
শুনেতেছি দূরে নবপ্রভাতের আলোর কলরব
ভয় নাই ওরে দূর্দিনের ত্রাতা তরী চলবেই আগে
তোমার মন্ত্রে সুপ্ত এ জাতি ঘুমিয়া আবার জাগে

তিমির দুয়ার খুলিয়াছে আবার রজনী গভীরতরো
হে কর্ণধার সম্মুখে তোমার অবিনাশী অস্ত্র করো জড়ো
ঝড়ের খেয়ায় কাঁপিতেছে বুক দিকহারা এ রাত
তবে তোমার হাতে সঁপে দিলাম লক্ষ প্রাণের হাত

ঝঞ্ঝাবর্তে দুলিছে জাতি রজনী অতল কালো
হে কর্ণধার জাগো জাগো জ্বালো নীশিথের আলো
আকাশ জুড়ে মেঘের গর্জন দিকহারা এ জাতি
তুমি ছাড়া আর কে দেবে তারে ভরসার প্রদীপ বাতি

সুপ্ত যারা রয়েছে আধারে জড়তায় ভরা বুক
তাহারে জাগাতে তোমারে আসিতে হবে হে মহামুখ
আসিতে হবে তিমির ঘন রাতের দুয়ারে
হে মাঝি তুমি কি ঘুমাও এখনো একাকি ওরে

হে অনাগত কান্ডারি,জাগো রে এবার কাটায়ো না কাল
ছিঁড়ে ফেলে হতাশার মেঘ তোল রে আশার পাল
ওগো জাতির কর্ণধার এখনো কি শেষ হয় নাই আধার
তিমির রাত্রির এই আকূল পাথার

কতদূর আর ভাসবে তরী?

কবে দিবে অভয়ের উপহার?
ওরে ও ধ্রুবতারা
তিমির দূর্গের দ্বারে আঘাত হানিয়া
কবে তুমি আনিবে আলোর জোয়ার