🔥 মৃত্যু কণ্ঠ | Dead Voice 🔥
রাত ১০:১০।
আমি তখনও দোকানে বসে।
দিনের শেষ ব্যাচের ক্লাস অনেক আগেই শেষ।
সব ছাত্র চলে গেছে।
শুধু আমি… আর কয়েকটা কম্পিউটার।
**প্রযুক্তিপুঞ্জ**—ছোট্ট আমার ট্রেনিং সেন্টারটা এই সময় সবচেয়ে বেশি নীরব থাকে।
ফ্যানের হালকা গুঞ্জন… CPU-এর হালকা শব্দ… আর মাঝে মাঝে কিবোর্ডের চাপা শব্দ।
আজ একটা কাজ শেষ করতেই হবে—
একটা বুটেবল পেনড্রাইভ বানাচ্ছি।
হঠাৎ—
কম্পিউটারের স্ক্রিন নিজে নিজে ব্ল্যাক হয়ে গেল।
আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম।
“কারেন্ট তো ঠিকই আছে…”
ঠিক তখনই—
টেবিলের উপর রাখা ফোনটা কাঁপতে শুরু করল।
**ভাইব্রেশন… ভাইব্রেশন…**
আমি ফোনটা হাতে নিলাম।
স্ক্রিনে যা দেখলাম—
আমার গলা শুকিয়ে গেল।
👉 **Caller Name: আমি**
👉 **Number: আমার নিজেরটাই**
কয়েক সেকেন্ড নিঃশ্বাস আটকে রইল।
“নিজের নম্বর…? এটা কীভাবে সম্ভব…?”
হাত কাঁপতে কাঁপতে কলটা রিসিভ করলাম।
প্রথমে কিছুই না।
শুধু হালকা একটা শোঁ শোঁ শব্দ…
যেন বাতাস না—কিছু একটা শ্বাস নিচ্ছে।
তারপর—
> “সাগর… শুনতে পাচ্ছিস…?”
আমার বুকের ভেতরটা জমে গেল।
এই কণ্ঠ—
**আমারই।**
কিন্তু… এটা আমি না।
এটা ক্লান্ত… ভাঙা…
আর সবচেয়ে ভয়ংকর—
এটার মধ্যে একটা আতঙ্ক লুকানো।
> “সময় খুব কম…
> আজ রাত… তুই বাঁচবি না…”
আমার হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
“কে… কে বলছিস এসব?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর খুব নিচু, কাঁপা গলায়—
> “আমি… তুই…
> …আমি এখন আর বেঁচে নেই।”
ঠিক তখনই—
**ঠক… ঠক… ঠক…**
দরজায় কেউ নক করল।
ধীরে… ভারী…
যেন প্রতিটা শব্দ কাঠের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে।
আমার চোখ দরজার দিকে চলে গেল।
ফোনের ওপাশ থেকে তাড়াহুড়ো করে চিৎকার—
> “দরজা খুলিস না!
> ওটা মানুষ না…!”
নক আবার—
**ঠক… ঠক… ঠক…**
এইবার একটু জোরে।
আমার পা নিজে থেকেই দরজার দিকে এগোতে লাগল…
আর ফোনের ওপাশ থেকে—
আমারই কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল—
> “যদি দরজা খোলিস…
> তুই নিজের লাশটাই দেখবি…”
---
আমি কাঁপতে কাঁপতে দরজা থেকে পিছনে সরলাম।
কিন্তু ফোনটা হঠাৎ নিজে নিজে কেটে গেল।
নীরবতা… সম্পূর্ণ নীরবতা।
আমি সিসিটিভির দিকে তাকালাম।
স্ক্রিনে কেউ নেই।
কিন্তু হঠাৎ… ক্যামেরায় ফুটে উঠল **আমারই প্রতিচ্ছবি**।
আমি আরেকবার তাকালাম—
**আয়নায়**
যে আমি দেখতে পাচ্ছি, সে **হাসছে না, সে চিৎকার করছে**।
এক মুহূর্তে সব বুঝলাম।
ফোনের কণ্ঠ, দরজার নক, আয়নার ছায়া—
সবই **আমি**, কিন্তু অন্য কেউ—**ভবিষ্যতের আমি, যা আমি আর হবার আগে চাই না**।
হঠাৎ এক ঝলক আলো—
দরজার নিচে হাতটা দুলতে লাগল।
কোনো কোনোটা হাতের নয়…
এটা যেন… কেউ অন্য কেউ।
আমি চিৎকার করতে গেলাম।
কিন্তু কণ্ঠটা ভেতরে থেকে ফিসফিস করল—
> “তুই যদি পালাতে চাস, তুই কখনও বাঁচবি না…”
দরজার হ্যান্ডেলটা ধীরে ধীরে ঘোরল।
আমি সটকে গেলাম।
দরজার ফাঁক থেকে দেখতে পেলাম…
**অজানা, আমারই মতো মুখ।**
আমি সরে গেলাম।
আয়নাতে তাকালাম।
আমার চোখগুলো নিজে থেকে চকচক করছিল।
ফোনটা হঠাৎ বাজতে শুরু করল—
এবারে স্ক্রিনে লেখা—
👉 **“শেষ সতর্কতা”**
আমি জানতাম—যে কিছুই ঘটে,
এ রাত **শেষ হবে না…**
আমি বাঁচব না…
অথবা, আমি কখনও আর আমি থাকব না…
**শেষ।**
গল্প — মৃত্যু কন্ঠ।
১৩২
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
প্রেমেন্দ্র মিত্র
শুভ জন্মদিন! 🎈
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
প্রিয় কবি বন্ধু, আপনার আন্তরিক প্রশংসার জন্য হৃদয...
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
কাজী অ্যাডাম
প্রিয় কবি বন্ধু, আপনার আন্তরিক ভালো লাগার জন্য কৃ...
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
কাজী অ্যাডাম