সব পথ নদীর দিকে যায় না;
কিছু পথ কুয়াশার ভেতর হারিয়ে থাকে—
যেখানে সন্ধ্যার পাখিরা
অচেনা গাছের ডালে বসে
নিজেদের ছায়াকেও চিনতে পারে না।
মেধা কোনো একাকী দীপশিখা নয়—
সে দূরের ধানক্ষেতে
শিশিরের মতো নিঃশব্দে নেমে আসে;
যে চোখ মাটির রং পড়তে জানে,
শুধু সেই চোখেই তার আলো জ্বলে।
দ্রুততারও একদিন ক্লান্তি আসে—
অতিদ্রুত নদী কখনো নিজের তীর ভেঙে ফেলে;
অথচ ধীর স্রোত
অগোচরে বয়ে নিয়ে যায়
শত বছরের উর্বর পলি।
চতুরতা অনেকটা
শালিকের হঠাৎ উড়ে যাওয়া;
প্রজ্ঞা বরং সেই বটগাছ—
ঝড় এলে যে আরও গভীরে
শিকড় নামায়,
আর নীরবে ধারণ করে
বিস্তীর্ণ আকাশ।
মানুষের ভেতরেও ঋতু বদলায়;
সব বীজ বসন্তে অঙ্কুরিত হয় না—
কিছু বীজ অপেক্ষা করে
দীর্ঘ শীত, দীর্ঘ নীরবতা,
একটি অনুকূল বৃষ্টির জন্য।
তাই যে অপেক্ষা করতে জানে,
সে সিদ্ধান্তের গভীরতাও বোঝে;
যে নীরবতার ভাষা জানে,
সে শব্দের প্রকৃত ওজন
হৃদয়ে মেপে নিতে পারে।
শেষ বিকেলের আলো যেমন
পাতার ফাঁক গলে
ধীরে ধীরে মাটিতে নামে,
প্রজ্ঞাও তেমনি আসে—
কোনো বিজয়ের শঙ্খধ্বনি নিয়ে নয়,
বরং দীর্ঘ পথের ধুলো মেখে,
নিঃশব্দ পায়ে।
শেষে মানুষ বুঝতে শেখে—
মেধা কেবল আকাশ ছোঁয়ার সিঁড়ি নয়;
এ এক অন্তর্লিখিত মানচিত্র,
যেখানে পথের চেয়ে দিক বড়,
গন্তব্যের চেয়েও বড়
একটি প্রশ্ন—
কোন আলোয়
তুমি হেঁটেছিলে?
অনুসন্ধান করুন
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
সুন্দর লেখা, অভিনন্দন কবি
আরো দেখুন
কাজী অ্যাডাম
লেখক:
আনিস খান শিহাব
আসসালামু আলাইকুম । বাংলা কবিতা নেট কবিতা অঙ্গনে সক...
আরো দেখুন
নূর মোহাম্মদ কল্পকবি
লেখক:
নূর মোহাম্মদ কল্পকবি