সুরঞ্জনা,
দোহাই তোমার, তোমায় আজ শুনতেই হবে
এ পাড়ায় আসামাত্র ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে
শুধু তোমাদের গলিতে ওই ব্যান্ডমাস্টার না কে থাকে
সে কেন তোমার বাবার কাছে অত যায়
কথা নেই, বার্তা নেই, তোমাদের ছাতে বসে গান গায়
সুর তো মোটেই আসে না, তা হলে কি…
বিশ্বাস করো, এই সব সাত-পাঁচ ভেবে
স্বপ্নেও কথা বলি, আবোল-তাবোল বকি
ভয় হয়, মা কোন দিন জেগে উঠে সব শুনে নেবে
ওহো, তুমি কাল ফুল-ফুল যে শাড়িটা পরেছিলে
তোমায় যা লাগছিল না, কী বলব
আর… (না রাগলে বলি) ব্লাউজের লাল রং মিলে
ঠিক যেন প্যান্ডেলের ঠাকুরের মতো! আমাদের নবো-
তোমাকে দেখেই বলল, মাইরি পা ছুঁতে ইচ্ছে হয়
আমি একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম শুনে, তার ওপর ভয়
ও আমার মুখ-চোখ দেখে কিছু ধরতে না পারে
এইভাবে বেশি দিন চলবে না জানি
তার ওপর তোমাদের স্কুলেও এত কড়াকড়ি করে
কাল তো বৃষ্টি এল, একটুও বাইরে থাকোনি
শুধু আমিই সারাক্ষণ কাক-ভেজা ভিজে
ওই যে তোমাদের গেটে ফুচকা বিক্রি করে বাবুলাল-
আমার এক বোনকে দিয়ে তাকে খোসামোদ ক’রে
তাও কোনও রাস্তা নেই দেখে হাত-পা ধ’রে নিজে
এই চিঠিটাই দিতে গেছিলাম, কিন্তু কপাল!
তোমাদের মীরা না কি নীরা দিদিমণি হবে
তিনি তখন ছাতি হাতে বেরোচ্ছেন সবে
ব্যস্ আর কোনও সুযোগই পাইনি, তবে জ্বরে
সারা রাত দেখেছি তোমাকে… চিঠি প’ড়ে
তোমার কী ফুলের মতন হাসি
তোমার ওই ফুল-ছাপ শাড়ি থেকে তুলে, রাশিরাশি
দোপাটির ফুল…হাত ভরে দিয়েছ আমাকে
সুরঞ্জনা, দোহাই তোমার-খুলে বলো
আমার মাথার দিব্যি। তোমায় আজ বলতেই হবে
কখনও বোঝোনি তুমি, ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে?

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন