বাবু,
তুই নাকি আর নিতে আসবি না আমাকে ?
এরা সবাই বলছে ।
আমি কিন্তু বিশ্বাস করিনি।
তাই কখনো হয়, বল ?
ছেলে কোনোদিন মাকে ছেড়ে থাকতে পারে ?
তুই আবার সেই ছোটবেলা থেকেই খুব ভীতু ।
একটু জোরে ঝড় হলে বা রাতে বেড়াল ডাকলে তুই কেমন জাপটে ধরতিস আমাকে ।
আর কেমন গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকতিস আমার কোলে ।
তখন আমি তোকে বলতাম ভয় কি বাবা ,এই তো আমি ।
একটু বড়ো হয়ে যখন তুই স্কুলে যেতে শিখলি !
তোর জন্য সারাদিন আমি স্কুলের পাশে মাঠে বসে থাকতাম ।
এসব কথা ভাবলে এখন আমার খুব হাসি পায় ।
সেই তুই কত্তো বড়ো হয়ে গেছিস !
তোর মনে আছে ? যেদিন তুই চাকরি পাওয়ার খবরটা আমাকে দিয়েছিলি ।
আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল!
তাই দেখে তুই কেমন পাগলের মতো আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলি।
আমি বললাম, পাগল ছেলে আমার ।
মায়ের চোখের জল সবসময় দুঃখের হয় না রে ।
এতো আমার সারাজীবনের কষ্টগুলো আজ খুশিতে আশীর্বাদ হয়ে ঝরে পড়ছে ।
আর যেদিন তোর বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম ?
তুই কেমন লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছিলি ?
আর বলেছিলি ,
না মা, আমি আমার এই ভালোবাসা তোমাকে ছাড়া কাউকে দিতে পারবো না ।
আমার পৃথিবীতে তুমি ছাড়া আর কেউ থাকবে না।
আমি বলেছিলাম, ভালোবাসা বিলিয়ে দিলে কমে না রে ।
আর তারপর তোর বিয়ে হলো।
প্রান ভরে তোদেরকে আশীর্বাদ করলাম ।
এতো বড়ো বাড়িতে আমিও একা থাকার একঘেয়েমি থেকে হাঁফ ছেড়ে বাচলাম, বৌমা কে পেয়ে ।
তারপর দাদুভাই এলো আমার বন্ধু হয়ে ।
পুরো তোর মতো, ঠিক ছোটবেলায় তুই যেমন ছিলি ।
ওপরওয়ালা যেনো সব খুশি গুলো আমাকে একসঙ্গে দিয়ে দিলেন !
আজ দশদিন তোদেরকে দেখিনি বাবা ।
হ্যাঁ রে, দাদুভাই কে সন্ধ্যা বেলায় কে কোলে নেয় ?
ভাইকে সব সময় গরম জামাকাপড় পরিয়ে রাখিস তো?
আর তুই খাওয়ার পরে মৌরি, জোয়ানের গুঁড়ো খাস তো ?
বৌমার কোমরের ব্যথাটা কমেছে একটু ?
আমার খুব কষ্ট হচ্ছে বাবা এখানে, তোদের কথা ভেবে ।
কি করবো বল !
সারাজীবন তোকে আগলে রাখার অভ্যেস যে বাবা।
কবে আসবি বল না আমাকে নিতে ?
আমার মন টিকছে না এখানে ।
এখানে অনেক লোক আছে কিন্তু আমার চোখ তো তোর পথ চেয়ে বাবা?
সারাজীবন তোকে বুকে আগলে রেখেছি বাবা।
এখন আমাকে বুকে না পারিস অন্তত বাড়িতে একটু জায়গা দে না বাবা ?
তোর অতো বড়ো বাড়িতে কতো জিনিস !
সেখানে এই বুড়িটার একটু ঠাঁই হবে না বাবা?
আর যদি নাই পারিস !
তাহলে এখান থেকে নিয়ে আমাকে সেই জায়গায় রেখে আয় বাবা, যেখান থেকে কেউ কোনদিন ফিরে আসে না !
কেউ কোনদিন ফিরে আসে না ,,,,,,,
আফতাব মল্লিক
পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ,ভারত।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন